মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নাগরিকেরা তাঁদের চিন্তা, মতামত ও দ্বিমত মুক্তভাবে প্রকাশ করবেন—এটাই স্বাভাবিক ও কাম্য। তবে এই অধিকারের একটি স্পষ্ট সীমা রয়েছে। উগ্রতা, উচ্ছৃঙ্খলা কিংবা কুরুচিপূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রমণ কখনোই মুক্তচিন্তার অংশ হতে পারে না। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কটু বাক্য প্রয়োগ করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়; বরং তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির চরম অবক্ষয়েরই বহিঃপ্রকাশ।
সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে যেভাবে কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ ও কটু বাক্য ব্যবহার করতে দেখা যায়, তা ওপরের বক্তব্যের এক বাস্তব ও দুঃখজনক প্রতিফলন। রাজনীতিতে নীতিগত মতপার্থক্য থাকবে, থাকবে সরকারের নীতি বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কঠোর ও যুক্তিনির্ভর সমালোচনা। কিন্তু যখন যুক্তি ও তথ্যের জায়গা দখল করে নেয় কুরুচিপূর্ণ ভাষার ব্যবহার, তখন তা আর ‘সমালোচনা’ থাকে না; তা পরিণত হয় ‘উচ্ছৃঙ্খলা’ ও ‘উগ্রতায়’।
একটি দায়িত্বশীল সমাজ ও রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি শালীনতা ও শিষ্টাচার বজায় রাখা আবশ্যক। বিরোধী বা শাসক—যেকোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করার অধিকার সবারই রয়েছে। কিন্তু ভাষার মার্জিত রূপ ও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখা প্রতিটি সচেতন নাগরিক ও রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কুরুচিপূর্ণ শব্দচয়ন বা গালিগালাজ কেবল নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নেতাকে আঘাত করে না; বরং তা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির মান অবনমিত করে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে সহনশীলতার অভাব তৈরি করে উগ্রতার জন্ম দেয়।
সমালোচনা হলো গণতন্ত্রের পরম শক্তি, আর উগ্রতা তার ধ্বংসক। রাজনীতিকে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা প্রতিহিংসার চর্চাকেন্দ্রে পরিণত না করে যুক্তিনির্ভর ও গঠনমূলক আলোচনার জায়গায় ফিরিয়ে আনা আজ সময়ের দাবি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে উগ্রতা, গালাগাল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষাকে প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা বৃদ্ধি না পেলে একটি সুস্থ, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন কখনোই সম্ভব নয়।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন
Very good, excellent lekha, best wishes for you and your family 💘