• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারি আটক করে থানায় আসার সময় এস আই সহ নিহত ২ আহত ২ জন মোঃ মুক্তাদির হোসেন, বাংলাদেশ কবিতা সংসদের সাহিত্য সম্মেলন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কবিতা: সমাজের আয়না সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে এমপি মিলন, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস তুমুলিয়া ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম কবিতা:মায়ার পৃথিবী, সত্যের স্রষ্টা — একটি আত্মোপলব্ধির কবিতা রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম তারিখ:১৬/১০/২০২৬ স্বী স্ত্রীর রমীমা মাদক ব্যবসা কালীগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যেগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার। লেখকঃ জামিনুর ইসলাম। দৈনিক বাংলার কথা।

বাংলার কথা ডেস্ক / ৮৪ বার পঠিত
আপডেটঃ শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

​মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার
জামিনুর ইসলাম

​মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নাগরিকেরা তাঁদের চিন্তা, মতামত ও দ্বিমত মুক্তভাবে প্রকাশ করবেন—এটাই স্বাভাবিক ও কাম্য। তবে এই অধিকারের একটি স্পষ্ট সীমা রয়েছে। উগ্রতা, উচ্ছৃঙ্খলা কিংবা কুরুচিপূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রমণ কখনোই মুক্তচিন্তার অংশ হতে পারে না। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কটু বাক্য প্রয়োগ করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়; বরং তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির চরম অবক্ষয়েরই বহিঃপ্রকাশ।
​সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে যেভাবে কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ ও কটু বাক্য ব্যবহার করতে দেখা যায়, তা ওপরের বক্তব্যের এক বাস্তব ও দুঃখজনক প্রতিফলন। রাজনীতিতে নীতিগত মতপার্থক্য থাকবে, থাকবে সরকারের নীতি বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কঠোর ও যুক্তিনির্ভর সমালোচনা। কিন্তু যখন যুক্তি ও তথ্যের জায়গা দখল করে নেয় কুরুচিপূর্ণ ভাষার ব্যবহার, তখন তা আর ‘সমালোচনা’ থাকে না; তা পরিণত হয় ‘উচ্ছৃঙ্খলা’ ও ‘উগ্রতায়’।
​একটি দায়িত্বশীল সমাজ ও রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি শালীনতা ও শিষ্টাচার বজায় রাখা আবশ্যক। বিরোধী বা শাসক—যেকোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করার অধিকার সবারই রয়েছে। কিন্তু ভাষার মার্জিত রূপ ও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখা প্রতিটি সচেতন নাগরিক ও রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কুরুচিপূর্ণ শব্দচয়ন বা গালিগালাজ কেবল নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নেতাকে আঘাত করে না; বরং তা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির মান অবনমিত করে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে সহনশীলতার অভাব তৈরি করে উগ্রতার জন্ম দেয়।
​সমালোচনা হলো গণতন্ত্রের পরম শক্তি, আর উগ্রতা তার ধ্বংসক। রাজনীতিকে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা প্রতিহিংসার চর্চাকেন্দ্রে পরিণত না করে যুক্তিনির্ভর ও গঠনমূলক আলোচনার জায়গায় ফিরিয়ে আনা আজ সময়ের দাবি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে উগ্রতা, গালাগাল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষাকে প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা বৃদ্ধি না পেলে একটি সুস্থ, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন কখনোই সম্ভব নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার। লেখকঃ জামিনুর ইসলাম। দৈনিক বাংলার কথা।”

  1. Khurshed Alam says:

    Very good, excellent lekha, best wishes for you and your family 💘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন