বাজেট, বেতন কাঠামো ও কৃষক: জাতীয় অর্থনীতির পুনর্বিন্যাসের দাবি
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতির উর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল (পে স্কেল) সংস্কার এবং প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের দাবিটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে একটি ন্যায্য ও বাস্তবায়নে সক্ষম নীতি নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি।
পে স্কেলের পুনর্বিন্যাস ও বাস্তবতা
বিগত বছরগুলোতে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি সাধারণ ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। সর্বশেষ সরকারি পে স্কেল ঘোষণার পর থেকে বর্তমান বাজারমূল্যের ব্যবধান আকাশচুম্বী। তবে কেবল সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল বা মহার্ঘ ভাতা প্রদানই সব সমস্যার সমাধান নয়। খেয়াল রাখতে হবে, যেন পে স্কেল সমন্বয়ের ফলে বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ না সৃষ্টি হয়। এজন্য প্রয়োজন একটি স্বয়ংক্রিয় বা ইনডেক্স-ভিত্তিক বেতন কাঠামো, যা মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করা সম্ভব হবে এবং এর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষাও নিশ্চিত করবে।
কৃষকের মান উন্নয়ন: অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি
আমাদের জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলেও দেশের কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। দ্রব্যমূল্য বাড়লেও কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন; লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া গোষ্ঠী। কৃষকের ভাগ্যোন্নয়ন ও কৃষি খাতের টেকসই রূপান্তরের জন্য কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন:
ন্যায্যমূল্য ও সরাসরি বাজারজাতকরণ: মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকের সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করা।
সহজ শর্তে ঋণ ও উপকরণ সহায়তা: সার, বীজ ও জ্বালানিতে সময়মতো ভর্তুকি প্রদান এবং প্রকৃত কৃষকদের কাছে জামানতহীন কৃষিঋণ পৌঁছে দেওয়া।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি, খরা ও বন্যা সহনশীল ফসলের বীজ এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার বিস্তার।
শস্য বিমা চালু: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি উদ্যোগে বিস্তৃত শস্য বিমা চালু করা।
বর্তমান পরিস্থিতি ও পথনির্দেশ
দেশের বর্তমান সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা। কেবল শহরের সরকারি চাকরিজীবী বা নির্দিষ্ট শ্রেণিকে কেন্দ্র করে নীতি নির্ধারণ করলে বৈষম্য আরও বাড়বে। কৃষক যদি মাঠে ফসল ফলিয়ে বাঁচতে পারেন, তবেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। পে স্কেল সংস্কারের মাধ্যমে যেমন নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করতে হবে, তেমনি কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দিয়ে জাতীয় অর্থনীতির শক্ত ভিত্তিকে পুনরুজ্জীবিত করাই হোক বর্তমান সময়ের মূল অগ্রাধিকার।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন