বাবাকে বাঁধা দেখে চা- রুটি নিয়ে ছুটে এলো শিশুকন্যা, খালি পেটে কি বিচার হয়?
মতামত-কলমে রিশাদ হোসেন
ভিডিওটা আপনারা সবাই দেখেছেন। চুরির অভিযোগে এক অসহায় বাবাকে খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর সেই বাবার জন্য থালায় চা-রুটি নিয়ে খালি পায়ে ছুটে আসছে তার ছোট্ট মেয়েটা।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরে বরিশালের স্থানীয় পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের সংবাদের বরাতে জানা যায়,বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবা। চারপাশে মানুষের ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে বাবার কাছে ছুটে এল ছোট্ট মেয়েটি। হাতে রুটি ও চা। কাছে গিয়েই বাবার মুখে খাবার তুলে দিতে শুরু করল সে। সারারাত না খেয়ে থাকা বাবাকে নিজের হাতে খাওয়ানোর সেই দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় এক যুবকের ধারণ করা ওই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দৃশ্যটা বুকে লাগে। আমরা লাখ লাখ মানুষ দেখেছি, শেয়ার করেছি, কমেন্টে ‘আহারে’ লিখেছি।
কিন্তু ভাইরাল হওয়ার পর প্রশ্ন হওয়ার কথা ছিল-লোকটার এখন কি হলো?
আমার জানামতে, কেউ তার পাশে দাঁড়ায়নি।
স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি, কোনো বড় ব্যবসায়ী, কোনো দোকান মালিক কি এগিয়ে এসে বলেছে – “ভাই, তোমাকে আর চুরি করতে হবে না, আমার দোকানে কাজ করো, বা তোমাকে একটা ছোট মুদি দোকান করে দিচ্ছি?”বলেনি। কারণ খুঁটিতে বাঁধা সহজ, হাত ধরে টেনে তোলা কঠিন।
আমরা বিচার করতে ভালোবাসি। কিন্তু আমরা কি একবারও ভেবেছি, একটা মানুষ কেন চুরি করে? শখে নয়। পেটের দায়ে। ঘরে তার বাচ্চাটা না খেয়ে আছে বলেই হয়তো।
আমি চুরির পক্ষে নই। চুরি অপরাধ। কিন্তু একজন বাবাকে খুঁটিতে বেঁধে রাখা আর তার শিশুকে সবার সামনে এভাবে কাঁদানো, সেটা আরও বড় অপরাধ।
আমরা কি পারি না?
ওই এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বার, বাজারের ব্যবসায়ীরা চাইলে তো পারেন – তাকে ১৫-২০ হাজার টাকায় একটা ছোট পানের/মুদির দোকান করে দিতে। কারো কোম্পানিতে / গোডাউনে ৮ হাজার টাকার একটা চাকরি দিতে। কিংবা তার মেয়েটার স্কুলের বই-খাতার দায়িত্ব নিতে?
ভাইরাল অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর আছে যারা মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা ও মানবিক কাজ করে বেড়াচ্ছে। এমন অনেক জনে আছেন যাদের ২০ হাজার টাকা ফেসবুকের এক দিনের বুস্টের টাকাও না। ঐ পরিমান অর্থ হয়ে উঠতে পারে,ওই পরিবারের জন্য এটা নতুন জীবন।কিন্তূতাদের কেউই এগিয়ে আসলো না।
আসুন, আমরা শুধু ভিডিওতে রিয়েক্ট না দিয়ে, মানুষের পাশে দাঁড়াই।ভিডিও শেয়ার করা শেষ, এবার একটু মানবিক হই।
যদি কেউ ওই অসহায় বাবাকে সহযোগিতা করতে চান তাহলে
সন্ধান নিন,সহযোগিতা করুণ।আর কোনো দিন যেনো ওই শিশুটিকে চোখের পানি ফেলতে না হয়। তার তার অসহায় বাবার হাত খুঁটি থেকে খুলে, হাতে কাজ ধরিয়ে দেওয়াটা হবে,অসাধারণ একটি মানবিক বিচার। যাতে তার মেয়েটাকে আর কখনো চা-রুটি নিয়ে খুঁটির কাছে দৌড়াতে না হয়, বাবার হাত ধরে স্কুলে যেতে পারে।
জুনিয়র সাংবাদিক- রিশাদ হোসেন, তরুণ লেখক ও সংবাদকর্মী দৈনিক বাংলার কথা
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন