নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে একাধিক বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হওয়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলাম আদালতে সাংবাদিকদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মরিয়ম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা।
মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের সময় কয়েকটি হাতে লেখা নোট পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এসব লেখায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অভিমান ও মানসিক কষ্টের বিষয় উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নোটগুলো মরিয়মের নিজের লেখা কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাতের লেখা যাচাই ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ফলে শুধু চিরকুটের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
প্রকাশিত মামলার তথ্য অনুযায়ী, মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে চলতি বছরের জুনে হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তিনি ন্যাম ভবনের ওই বাসায় গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন বলে পুলিশ ও মামলার নথিতে উঠে এসেছে।
মরিয়মের মৃত্যুর আগে তাঁর পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, হলে তার প্রকৃতি কী ছিল—তদন্তে এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তকারীদের কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে—
এসব তথ্য পর্যালোচনার পরই মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
মরিয়মের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়লেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
বর্তমানে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মামলার আসামিদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও আইনগতভাবে সঠিক নয়।
তদন্তে পাওয়া আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারিত হওয়ার কথা।
তথ্যসূত্র: পুলিশ, মামলার তথ্য ও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন