একই মুখ, একই কণ্ঠ—তবু একজন মেহরীন, অন্যজন তার ছায়া।
কিন্তু ছায়াটা যদি পাঁচ বছর ধরে তার জীবনটা বেঁচে থাকে, তাহলে আসল মেহরীন কোথায়?
মেহরীন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রইল।
প্রতিবিম্বের ঠোঁটে সেই অচেনা হাসি।
হঠাৎ সে চোখ বন্ধ করল।
আবার খুলল।
প্রতিবিম্ব স্বাভাবিক।
মেহরীন দ্রুত ক্যাসেটটা বন্ধ করে দিল।
ঠিক তখন দরজায় আবার শব্দ হলো।
—মেহরীন, আমি আরিয়ান। দরজা খোলো।
মেহরীন এবার বলল—
—তুমি কি জানো M-2 কে?
ওপাশে দীর্ঘ নীরবতা।
তারপর আরিয়ান বলল—
—হ্যাঁ।
—সে কি আমার মতো দেখতে?
—হ্যাঁ।
মেহরীনের বুক কেঁপে উঠল।
—সে কি এখনও বেঁচে আছে?
আরিয়ান উত্তর দিল না।
মেহরীন দরজার কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল—
—পাঁচ বছর আগে হাসপাতালে যে মেয়েটা ছিল… সে কি আমি ছিলাম?
আরিয়ান এবার খুব নিচু গলায় বলল—
—তুমি ছিলে। কিন্তু একা ছিলে না।
মেহরীনের চোখ চলে গেল ফাইলটার দিকে।
Patient M-2.
—আর অন্য মেয়েটা?
আরিয়ান বলল—
—তাকে তোমার জায়গায় রাখা হয়েছিল।
মেহরীনের মাথা ঘুরে উঠল।
—কেন?
কয়েক সেকেন্ড পর আরিয়ান বলল—
—কারণ তোমাকে সরিয়ে না দিলে… তোমার স্মৃতি কখনো নিরাপদ থাকত না।
মেহরীন হঠাৎ দরজা খুলে দিল।
করিডোরে আরিয়ান দাঁড়িয়ে।
কিন্তু তার মুখ দেখে মেহরীন থেমে গেল।
আরিয়ানের হাতে একটি পুরোনো হাসপাতালের ছবি।
সে ছবিটা মেহরীনের দিকে বাড়িয়ে দিল।
ছবিতে—
দুজন মেহরীন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে।
একজনের হাতে ০৩/M টোকেন।
অন্যজনের হাতে একটি চিঠি।
ছবির পেছনে লেখা—
“একজনকে বাঁচাতে হবে। অন্যজনকে ভুলে যেতে হবে।”
মেহরীনের গলা শুকিয়ে গেল।
—এটা কে লিখেছে?
আরিয়ান উত্তর দেওয়ার আগেই তার ফোন বেজে উঠল।
মায়া।
মেহরীন কল ধরতেই ওপাশ থেকে মায়ার আতঙ্কিত কণ্ঠ—
—মেহরীন, আরিয়ানকে বিশ্বাস কোরো না। সে তোমাকে পুরো সত্যিটা বলেনি।
কল কেটে গেল।
মেহরীন ধীরে আরিয়ানের দিকে তাকাল।
আরিয়ান শুধু বলল—
—মায়া এবার সত্যি কথা বলেছে। কিন্তু পুরোটা নয়।
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন