শেষ চিঠির ওপারে — পর্ব ১৫
একই মুখের দুজন মানুষ হতে পারে না—
তবু মেহরীনের সামনে প্রমাণ বলছে, পাঁচ বছর আগে তার জায়গায় অন্য কেউ ছিল।
মেহরীন ছবিটা হাতে নিয়ে স্থির হয়ে বসে রইল।
Subject M-2.
ছবির মেয়েটি দেখতে হুবহু তার মতো।
কিন্তু ছবির নিচে তারিখ—
১৬ জুলাই, পাঁচ বছর আগে।
মেহরীনের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
একদিন আগে!
তাহলে ১৭ জুলাই হাসপাতালে যে মেহরীন ছিল, সে কে?
সে দ্রুত মায়াকে কল করল।
একবার।
দুবার।
তিনবার।
কোনো উত্তর নেই।
হঠাৎ দরজার বাইরে পায়ের শব্দ।
মেহরীন নিঃশব্দে উঠে দাঁড়াল।
শব্দটা দরজার সামনে এসে থেমে গেল।
তারপর খুব আস্তে—
—মেহরীন?
আরিয়ানের কণ্ঠ।
মেহরীন দরজা খুলল না।
—তুমি এখানে কেন?
—তোমার সঙ্গে জরুরি কথা আছে।
—Subject M-2 কে?
ওপাশে নীরবতা।
মেহরীন বুঝে গেল।
সে জানে।
—আরিয়ান, উত্তর দাও।
কিছুক্ষণ পর সে বলল—
—তুমি এখন যেটা ভাবছ, সেটা সত্যি নয়।
—তাহলে সত্যিটা কী?
—তোমাকে সব মনে পড়তে দেওয়া যাবে না।
মেহরীনের চোখে রাগ জমল।
—কে ঠিক করেছে আমি কী মনে রাখব?
আরিয়ান উত্তর দেওয়ার আগেই ঘরের ভেতর ফোনটা বেজে উঠল।
অচেনা নম্বর।
মেহরীন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একটি কণ্ঠ—
—আরিয়ানকে দরজা খুলবে না।
মেহরীন চমকে উঠল।
—কে?
—যাকে তুমি খুঁজছ, সে এখন তোমার দরজার ওপাশে নেই।
মেহরীন ধীরে দরজার দিকে তাকাল।
তারপর কণ্ঠটা বলল—
—কারণ আরিয়ান যে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা তোমার ঘরের দরজা নয়।
মেহরীনের বুক কেঁপে উঠল।
সে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
কণ্ঠটা আবার ফিসফিস করে বলল—
—দরজাটা খুলো না। ওটা তোমার বাড়ি নয়।
কল কেটে গেল।
মেহরীন দরজার হাতল থেকে হাত সরিয়ে নিল।
কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে—
দরজার ওপাশ থেকে আরিয়ানের কণ্ঠ নয়, মেহরীনের নিজের কণ্ঠ ভেসে এল—
“দরজা খোলো, মেহরীন… আমি ভেতরে আছি।”
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন