পর্ব ১০
মেহরীন পোশাকটা হাতে নিল।
পকেটের ভেতর কিছু একটা শক্ত জিনিস।
একটা ছোট ধাতব টোকেন।
গায়ে খোদাই করা—
০৩
তার নিচে আরও একটি অক্ষর—
M
মেহরীনের বুকটা কেঁপে উঠল।
ঠিক তখন ফোনে একটা ছবি এল।
পুরোনো হাসপাতালের করিডোর।
দেয়ালে ঘড়ি।
সময়—
২টা ১৭ মিনিট।
ছবির একেবারে শেষে দাঁড়িয়ে আছে একজন নারী।
মুখ দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু তার পরনে একই হাসপাতালের পোশাক।
মেহরীন ছবিটা বড় করল।
নারীর হাতে একটা ফাইল।
ফাইলের ওপর লেখা—
“Patient M — Memory Transfer.”
মেহরীনের আঙুল থেমে গেল।
—Memory Transfer?
সে শব্দটার অর্থ জানে।
কিন্তু হাসপাতালের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?
হঠাৎ ছবির নিচে নতুন একটি মেসেজ ফুটে উঠল—
“তোমার স্মৃতি হারায়নি, মেহরীন।
তোমার কাছ থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।”
মেহরীনের বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে গেল।
সে দ্রুত লিখল—
“কে সরিয়েছে?”
উত্তর এল মাত্র একটি শব্দে—
“তুমি।”
মেহরীন স্থির হয়ে গেল।
তারপর আরেকটি মেসেজ—
“মায়াকে খুঁজে পেলে জিজ্ঞেস কোরো—সেদিন রাতে সে কাকে মেরেছিল?”
মেহরীনের চোখ স্থির হয়ে গেল।
মায়া?
খুন?
কাকে?
ঠিক তখনই তার ফোনে অচেনা নম্বর থেকে একটি কল এল।
মেহরীন রিসিভ করতেই ওপাশে কোনো কণ্ঠ নেই।
শুধু দূর থেকে ভেসে আসছে হাসপাতালের মনিটরের শব্দ—
বিপ… বিপ… বিপ…
তারপর খুব আস্তে একজন ফিসফিস করে বলল—
“মেহরীন, তুমি যে মানুষটাকে খুঁজছ… সে তোমার সামনে নয়। সে তোমার ভেতরে।”
কল কেটে গেল।
মেহরীন আয়নার দিকে তাকাল।
তার প্রতিবিম্বও তাকিয়ে আছে।
কিন্তু এবার—
প্রতিবিম্বটা চোখের পলক ফেলল না।
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন