“দরজার ওপাশে যে মায়া দাঁড়িয়ে ছিল, সে যদি সত্যিই মায়া না হয়—তাহলে আসল মায়া কোথায়?
আর অন্ধকার ঘরে মেহরীনের নিজের কণ্ঠে যে সতর্কবার্তা শোনা গেল, সেটি কে রেকর্ড করেছিল?”
পর্ব ৮
মেহরীন দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
বাইরে আবার সেই কণ্ঠ—
—দরজা খোলো না।
এবার কণ্ঠটা খুব কাছে।
মেহরীন ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল।
তার চোখ পড়ল টেবিলের ওপর রাখা ক্যাসেটটার দিকে।
হঠাৎ ক্যাসেট নিজে থেকেই আবার চলতে শুরু করল।
খসখসে শব্দের পর একটি ফিসফিসে কণ্ঠ—
—যদি তুমি এটা শুনে থাকো, তাহলে বুঝবে… প্রথম চিঠিটা তোমাকে সত্যি বলেনি।
মেহরীনের বুক কেঁপে উঠল।
কণ্ঠটা থামল।
তারপর বলল—
—নাভিদকে খুঁজো না। তাকে খুঁজতে গেলে সে তোমাকে খুঁজে পাবে।
ক্যাসেট থেমে গেল।
ঠিক তখন দরজার নিচ দিয়ে আরেকটি কাগজ ঢুকে এল।
মেহরীন কাগজটা তুলে নিল।
মাত্র তিনটি শব্দ—
“মায়া কোথায়?”
তার নিচে একটি ঠিকানা।
পুরোনো একটি নার্সিংহোমের নাম।
মেহরীন ঠিকানাটা পড়তেই থমকে গেল।
কারণ সেই নার্সিংহোমের নাম সে চেনে।
পাঁচ বছর আগে দুর্ঘটনার রাতের হাসপাতালের নথিতে এই নামটাই ছিল।
কিন্তু সেখানে রোগীর নাম ছিল—
মেহরীন।
দরজার বাইরে আচমকা নীরবতা নেমে এলো।
মেহরীন সাহস করে দরজা খুলল।
করিডোর ফাঁকা।
মেঝেতে পড়ে আছে শুধু একটা কালো চুলের ক্লিপ।
মায়া এমন ক্লিপই পরত।
মেহরীন সেটা হাতে তুলে নিতেই ফোনে নতুন মেসেজ এলো—
“তুমি ভুল দরজা খুলেছ।”
সে ধীরে ধীরে পেছনে তাকাল।
তার ঘরের ভেতরের আলমারির দরজাটা খোলা।
যেটা সে বন্ধ করেছিল।
আর আলমারির অন্ধকারে ঝুলছে—
একটা পুরোনো হাসপাতালের পোশাক।
পকেটে সেলাই করা নাম—
মেহরীন।
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন