“কিছু দরজা বাইরে থেকে বন্ধ থাকে না—ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখা হয় সত্যকে।
আর মেহরীন আজ প্রথমবার বুঝল, তার অতীতের সবচেয়ে ভয়ংকর সাক্ষী হয়তো কোনো মানুষ নয়।”
পর্ব ৭
দরজার ওপাশে মায়ার কণ্ঠ।
—মেহরীন, দরজা খোলো।
মেহরীন নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল।
ক্যাসেটের শেষ কথাটা এখনও তার কানে বাজছে—
“তোমার বাবা জানতেন, সেই রাতে গাড়িটা কে চালাচ্ছিল।”
হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে একটা কাগজ ঢুকে এল।
মেহরীন নিচু হয়ে কাগজটা তুলে নিল।
মাত্র এক লাইন—
“দরজা খুললে মায়াকে দেখবে। আয়নায় তাকালে সত্যিটাকে।”
মেহরীনের বুক ধক করে উঠল।
সে ধীরে ধীরে আয়নার দিকে তাকাল।
প্রতিবিম্বটা এবার তার মতো দাঁড়িয়ে নেই।
মেহরীনের হাতে যে কাগজ, প্রতিবিম্বের হাতেও সেই কাগজ।
কিন্তু তার কাগজে অন্য কিছু লেখা।
মেহরীন চোখ কুঁচকে তাকাল।
আয়নার ভেতরের লেখাটা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হলো—
“গাড়িটা তোমার বাবা চালাননি।”
তার নিচে আরও একটি শব্দ ফুটে উঠল—
“তুমি।”
মেহরীনের শরীর অবশ হয়ে গেল।
ঠিক তখনই দরজায় প্রচণ্ড শব্দ হলো।
ধাম!
—মেহরীন! দরজা খোলো!
সে আরেকবার আয়নার দিকে তাকাল।
প্রতিবিম্বটা নেই।
শুধু আয়নার ওপর কুয়াশার মতো জমে আছে একটা বাক্য—
“তোমার স্মৃতি তোমার নিজের নয়।”
আর দরজার ওপাশ থেকে মায়ার কণ্ঠ এবার কাঁদতে কাঁদতে বলল—
—দয়া করে দরজা খুলো না… ওটা আমি নই।
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন