• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারি আটক করে থানায় আসার সময় এস আই সহ নিহত ২ আহত ২ জন মোঃ মুক্তাদির হোসেন, বাংলাদেশ কবিতা সংসদের সাহিত্য সম্মেলন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কবিতা: সমাজের আয়না সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে এমপি মিলন, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস তুমুলিয়া ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম কবিতা:মায়ার পৃথিবী, সত্যের স্রষ্টা — একটি আত্মোপলব্ধির কবিতা রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম তারিখ:১৬/১০/২০২৬ স্বী স্ত্রীর রমীমা মাদক ব্যবসা কালীগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যেগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

শেষ চিঠির ওপারে। লেখিকাঃ নাজনীন শামীম — পর্ব ২৩। দৈনিক বাংলার কথা।

বাংলার কথা ডেস্ক / ৩৩ বার পঠিত
আপডেটঃ বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেষ চিঠির ওপারে
নাজনীন শামীম
— পর্ব ২৩

সে কে?
“তুমি যাকে আজ আরিয়ান বলে ডাকছ, সে আসল আরিয়ান নয়।”
মেহরীন কথাটা বারবার পড়ল।
তারপর ধীরে ধীরে ছবিটা তুলে নিল।
—এটা মিথ্যা।
আরিয়ান চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
মেহরীন এবার তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
—তুমি বলো।
—কী?
—ছবিটা মিথ্যা, বলো।
আরিয়ান তার চোখের দিকে তাকাতে পারল না।
এই নীরবতাই মেহরীনের কাছে উত্তর হয়ে গেল।
—তাহলে সত্যি?
আরিয়ান ধীরে বলল—
—তুমি যেটা ভাবছ, সেটা পুরো সত্যি নয়।
—তাহলে পুরো সত্যিটা কী?
আরিয়ান কিছু বলার আগেই M-2 বলল—
—পাঁচ বছর আগে হাসপাতালে দুজন মানুষ ছিল।
মেহরীন তাকাল।
—কারা?
—তুমি আর আরিয়ান।
—আর তৃতীয় কেউ?
M-2 থেমে গেল।
মেহরীন বুঝতে পারল, এই থেমে যাওয়ার মধ্যেই কোনো বড় রহস্য লুকিয়ে আছে।
—তৃতীয় মানুষটা কে?
M-2 বলল—
—যে মানুষটাকে তুমি বাঁচাতে চেয়েছিলে।
মেহরীনের মাথার ভেতর আবার সেই দৃশ্যটা ভেসে উঠল।
হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।
সে কাঁদছে।
তার সামনে একজন শুয়ে আছে।
কেউ একজন তার হাত ধরে বলছে—
“আমাকে ভুলে যেও না।”
মেহরীন চোখ খুলে ফেলল।
তার বুক ধড়ফড় করছে।
—আমি তার হাত ধরেছিলাম…
আরিয়ান বলল—
—হ্যাঁ।
—তারপর?
—তারপর তুমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে।
—কী সিদ্ধান্ত?
আরিয়ান উত্তর দিল না।
মেহরীন এবার M-2-এর দিকে তাকাল।
—তুমি জানো।
M-2 ধীরে মাথা নেড়ে বলল—
—তুমি তোমার স্মৃতি দিয়ে তাকে বাঁচাতে চেয়েছিলে।
—কিন্তু সে বেঁচেছিল?
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর M-2 বলল—
—হ্যাঁ।
মেহরীনের চোখে পানি চলে এল।
—তাহলে সে কোথায়?
আরিয়ান এবার বলল—
—তোমার সামনে।
মেহরীন থমকে গেল।
তারপর ধীরে ধীরে আরিয়ানের দিকে তাকাল।
—তুমি?
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
—না।
মেহরীনের মুখের রং বদলে গেল।
—তাহলে?
আরিয়ান পকেট থেকে একটা পুরোনো ছবি বের করল।
ছবিতে তিনজন মানুষ।
মেহরীন।
আরিয়ান।
আর মাঝখানে একজন অচেনা যুবক।
কিন্তু ছবির নিচে লেখা নামটা দেখে মেহরীনের হাত কেঁপে উঠল—
“মেহরীন — আরিয়ান — M-01”
মেহরীন ছবিটা শক্ত করে ধরে বলল—
—M-01 একজন মানুষ?
M-2 চুপ করে রইল।
আরিয়ান এবার খুব ধীরে বলল—
—ছিল।
মেহরীন অবাক হয়ে তাকাল।
—ছিল মানে?
—পাঁচ বছর আগে সে মারা যায়নি।
—তাহলে?
আরিয়ান চোখ নামিয়ে বলল—
—সে নিজের পরিচয় বদলেছিল।
—কেন?
আরিয়ান উত্তর দেওয়ার আগেই মেহরীনের ফোন বেজে উঠল।
অজানা নম্বর।
সে কল ধরল।
ওপাশ থেকে কয়েক সেকেন্ড কোনো শব্দ নেই।
তারপর খুব পরিচিত একটি কণ্ঠ—
“মেহরীন, এবার আর কাউকে বিশ্বাস কোরো না।”
মেহরীনের হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
—আপনি কে?
ওপাশ থেকে উত্তর এল—
“যাকে তুমি পাঁচ বছর ধরে খুঁজছ।”
কল কেটে গেল।
মেহরীন ধীরে ফোনটা নামিয়ে আনল।
তার চোখ গিয়ে থামল আরিয়ানের মুখে।
আরিয়ান ফিসফিস করে বলল—
—সে ফিরে এসেছে।
M-2 হঠাৎ দরজার দিকে তাকাল।
কারণ দরজার ওপাশে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
আর সেই ছায়াটা—
ঠিক ছবির M-01-এর মতো।
চলবে…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন