সে কে?
“তুমি যাকে আজ আরিয়ান বলে ডাকছ, সে আসল আরিয়ান নয়।”
মেহরীন কথাটা বারবার পড়ল।
তারপর ধীরে ধীরে ছবিটা তুলে নিল।
—এটা মিথ্যা।
আরিয়ান চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
মেহরীন এবার তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
—তুমি বলো।
—কী?
—ছবিটা মিথ্যা, বলো।
আরিয়ান তার চোখের দিকে তাকাতে পারল না।
এই নীরবতাই মেহরীনের কাছে উত্তর হয়ে গেল।
—তাহলে সত্যি?
আরিয়ান ধীরে বলল—
—তুমি যেটা ভাবছ, সেটা পুরো সত্যি নয়।
—তাহলে পুরো সত্যিটা কী?
আরিয়ান কিছু বলার আগেই M-2 বলল—
—পাঁচ বছর আগে হাসপাতালে দুজন মানুষ ছিল।
মেহরীন তাকাল।
—কারা?
—তুমি আর আরিয়ান।
—আর তৃতীয় কেউ?
M-2 থেমে গেল।
মেহরীন বুঝতে পারল, এই থেমে যাওয়ার মধ্যেই কোনো বড় রহস্য লুকিয়ে আছে।
—তৃতীয় মানুষটা কে?
M-2 বলল—
—যে মানুষটাকে তুমি বাঁচাতে চেয়েছিলে।
মেহরীনের মাথার ভেতর আবার সেই দৃশ্যটা ভেসে উঠল।
হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।
সে কাঁদছে।
তার সামনে একজন শুয়ে আছে।
কেউ একজন তার হাত ধরে বলছে—
“আমাকে ভুলে যেও না।”
মেহরীন চোখ খুলে ফেলল।
তার বুক ধড়ফড় করছে।
—আমি তার হাত ধরেছিলাম…
আরিয়ান বলল—
—হ্যাঁ।
—তারপর?
—তারপর তুমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে।
—কী সিদ্ধান্ত?
আরিয়ান উত্তর দিল না।
মেহরীন এবার M-2-এর দিকে তাকাল।
—তুমি জানো।
M-2 ধীরে মাথা নেড়ে বলল—
—তুমি তোমার স্মৃতি দিয়ে তাকে বাঁচাতে চেয়েছিলে।
—কিন্তু সে বেঁচেছিল?
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর M-2 বলল—
—হ্যাঁ।
মেহরীনের চোখে পানি চলে এল।
—তাহলে সে কোথায়?
আরিয়ান এবার বলল—
—তোমার সামনে।
মেহরীন থমকে গেল।
তারপর ধীরে ধীরে আরিয়ানের দিকে তাকাল।
—তুমি?
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
—না।
মেহরীনের মুখের রং বদলে গেল।
—তাহলে?
আরিয়ান পকেট থেকে একটা পুরোনো ছবি বের করল।
ছবিতে তিনজন মানুষ।
মেহরীন।
আরিয়ান।
আর মাঝখানে একজন অচেনা যুবক।
কিন্তু ছবির নিচে লেখা নামটা দেখে মেহরীনের হাত কেঁপে উঠল—
“মেহরীন — আরিয়ান — M-01”
মেহরীন ছবিটা শক্ত করে ধরে বলল—
—M-01 একজন মানুষ?
M-2 চুপ করে রইল।
আরিয়ান এবার খুব ধীরে বলল—
—ছিল।
মেহরীন অবাক হয়ে তাকাল।
—ছিল মানে?
—পাঁচ বছর আগে সে মারা যায়নি।
—তাহলে?
আরিয়ান চোখ নামিয়ে বলল—
—সে নিজের পরিচয় বদলেছিল।
—কেন?
আরিয়ান উত্তর দেওয়ার আগেই মেহরীনের ফোন বেজে উঠল।
অজানা নম্বর।
সে কল ধরল।
ওপাশ থেকে কয়েক সেকেন্ড কোনো শব্দ নেই।
তারপর খুব পরিচিত একটি কণ্ঠ—
“মেহরীন, এবার আর কাউকে বিশ্বাস কোরো না।”
মেহরীনের হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
—আপনি কে?
ওপাশ থেকে উত্তর এল—
“যাকে তুমি পাঁচ বছর ধরে খুঁজছ।”
কল কেটে গেল।
মেহরীন ধীরে ফোনটা নামিয়ে আনল।
তার চোখ গিয়ে থামল আরিয়ানের মুখে।
আরিয়ান ফিসফিস করে বলল—
—সে ফিরে এসেছে।
M-2 হঠাৎ দরজার দিকে তাকাল।
কারণ দরজার ওপাশে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
আর সেই ছায়াটা—
ঠিক ছবির M-01-এর মতো।
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন