• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারি আটক করে থানায় আসার সময় এস আই সহ নিহত ২ আহত ২ জন মোঃ মুক্তাদির হোসেন, বাংলাদেশ কবিতা সংসদের সাহিত্য সম্মেলন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কবিতা: সমাজের আয়না সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে এমপি মিলন, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস তুমুলিয়া ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম কবিতা:মায়ার পৃথিবী, সত্যের স্রষ্টা — একটি আত্মোপলব্ধির কবিতা রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম তারিখ:১৬/১০/২০২৬ স্বী স্ত্রীর রমীমা মাদক ব্যবসা কালীগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যেগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে জান্নাতুল পেলেন ৬০ হাজার মার্কিন ডলার শিক্ষাবৃত্তি।

বাংলার কথা ডেস্ক / ৮০ বার পঠিত
আপডেটঃ শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে জান্নাতুল পেলেন ৬০ হাজার মার্কিন ডলার শিক্ষাবৃত্তি।

বাংলার কথা ডেক্সঃ বাংলাদেশের অসংখ্য মেধাবীদের মধ্যে
হবিগঞ্জের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি) একজন মেধাবী। নানার প্রতিকুলতার কারনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাওয়ার উপক্রম। ঠিক তখনই কুলে গেলো স্বপ্নের সিঁড়ি! জান্নাতুল ফেরদৌস জেমির চট্টগ্রাম এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) পড়াশোনার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়ে গেলেন। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় জেমি প্রতিবছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে হাতে পাবেন।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠি দিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস জেমিকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত করেছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা আফজল আলী শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার অধিবাসী । তার পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের নানা ঝঞ্জাট ও প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি তার পড়ালেখা চালিয়ে এসেছেন।

২০২৫ সালে জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর গত ২০ জুলাই ২০২৬ থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। প্রোগ্রামটি সফলভাবে শেষ করার পর শেভরন বাংলাদেশ এর সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান তিনি।

বিজ্ঞান ভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমে সামার স্কুলে অংশ নেওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস জেমির জন্য পথ পরিক্রমা এতটা সহজ ছিল না। তবে নিজের আগ্রহ-মনোনিবেশ, আত্মসংযম, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জেমি সফলভাবে প্রোগ্রামটি শেষ করতে পেরেছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি
বৃত্তি পাওয়ার পর প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি এ ধরনের বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করেছি।
এখন নিজেকে গোছানো ও প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও পথ পরিক্রমায় এগোতে হবে। পাশাপাশি আমি চাই, আরোও শিক্ষার্থীরা, আমার ভাই-বোনেরা এ বৃত্তি অর্জন করে সমাজে মুখ উজ্জ্বল করুক ।’

জেমির বাবা আফজল আলী তার মেয়ের এ অর্জনে খুব খুশি হয়েছেন। মেয়েকে পড়ালেখা চলছে করানোর মতো সামর্থ্য তাঁর নেই বলে তিনি জানান। তিনি আরোও বলেন, জেমি বৃত্তি পাওয়ায় তিনি এখন চিন্তামুক্ত হয়েছেন। এখন তাঁর মেয়ে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করবেন ও প্রকৃত একজন মানুষ হবেন, সনাজে জেমি নিজেকে তুলে ধরবেন ও সমাজ এগিয়ে যাবে। তিনি তার মেয়েকে নিয়ে গর্ববোধ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমির এ অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আলোর দিশা ও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব—আমাদের জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি
তার প্রমাণ।

প্রসঙ্গত বিশিষ্ট কবি-কলামিস্ট সাংবাদিক ও পরিবেশ মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ বলেন, আত্মনির্ভরশীলতা ও সৃজনশীলতা মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে উত্তরোত্তর সফলতা এনে দেয়। প্রতিটি শিক্ষার্থী এখন তথ্য প্রযুক্তির আকাশে উড়তে শিখেছে কিন্তু এই উড়াকে সীমিত করতে হবে শিক্ষা গ্রহনের জন্যই। চিত্ত বিনোদনের জন্য হলে তো শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহনের সময় ও আকাঙ্খা হারিয়ে যাবে চিরতরে। এন্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহারের প্রতি শিক্ষার্থীদেরকে কঠোর নজরদারীতে রাখতে হবে ও শিক্ষার্থীদেরকেও আপন থেকেই নজর নজরদারীতে থাকতে হবে। স্মার্ট মোবাইল ফোনের অপব্যবহারের ফলে বহু মেধাবী উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীরা হারিয়ে যাচ্ছে পড়ার টেবিল থেকে। আকাশ আরো বলেন, উচ্চাকাঙ্খা থাকতে হবে কিন্তু লোভ থাকা যাবেনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন