কবি পরিচিতি: আরাফাতুল ইসলাম ২৬ এপ্রিল ২০০৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার এক ছোট্ট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কবি ও লেখক আরাফাতুল ইসলাম। গ্রামীণ জীবনের সরলতা, প্রকৃতির স্নিগ্ধতা এবং মানুষের নানামুখী অনুভূতির মধ্য দিয়েই তাঁর সাহিত্যবোধের বিকাশ।
শব্দের কারুকাজে জীবনের সূক্ষ্ম আবেগ, নিঃশব্দ অনুভূতি, ভালোবাসা, অভিমান ও বিরহের পাশাপাশি মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সমাজবাস্তবতাকে তুলে ধরতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে মিশে থাকে জীবন ও সমাজকে দেখার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি।
সম্প্রতি তাঁর একক কাব্যগ্রন্থ ‘নীরব প্রতিধ্বনি’ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন যৌথ সাহিত্য সংকলনে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা এবং নবীন লেখকদের নিয়ে কাজ করার প্রতিও তাঁর রয়েছে গভীর আগ্রহ।
তিনি বিশ্বাস করেন, কবিতা শুধু প্রেমের কথা বলার মাধ্যম নয়; কবিতা হতে পারে প্রতিবাদের ভাষা, শিক্ষার আলো এবং পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর। তাঁর প্রত্যাশা, তাঁর কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তি পাঠকের মনে কোনো না কোনো প্রশ্নের জন্ম দিক, অন্ধকারে আলো জ্বালুক এবং সমাজের ঘুমন্ত চেতনাকে জাগিয়ে তুলুক।
তাঁর কাছে লেখা এক ফালি আয়নার মতো যেখানে পাঠক নিজের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারেন, নিজের অপ্রকাশিত অনুভূতিগুলোকে চিনে নিতে পারেন এবং খুঁজে পেতে পারেন নতুন পথচলার অনুপ্রেরণা।
কবিতা: সমাজের আয়ন
কবি: আরাফাতুল ইসলাম
পথের ধারে ক্ষুধার্ত শিশু,
চোখে তার স্বপ্ন নেই,
হাত বাড়িয়ে চেয়ে থাকে শুধু,
ভাগ্য কি এভাবেই রইবে ক্ষীণ?
অট্টালিকায় আলো জ্বলে,
শীতল বাতাস বইছে ঘরে,
কিন্তু পাশেই ফুটপাথে মানুষ,
শীতে কাঁপে গভীর রাতে।
ন্যায়-অন্যায় মিলেমিশে,
ধূসর রঙে ঢেকেছে মন,
কেউবা ব্যস্ত সম্পদে মোহে,
কেউবা খোঁজে এক চিলতে ক্ষণ।
এই সমাজের আয়নাটাতে,
দেখতে কি পাও সবাইকে?
নাকি কেবল নিজের ছবি,
রেখে দাও স্বার্থের খাতায়?
আসো সবাই হাতে রাখি হাত,
ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালি,
আলোয় ভরবে আঁধার জীবন,
মানবতার বিজয় গাই।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন