শিরোনাম: কিয়ামতের আগে কি ধ্বংস হবে কাবা? মক্কা ও পবিত্র ঘর নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে
ধর্ম ডেস্ক:
মক্কা মুসলমানদের কাছে পৃথিবীর অন্যতম পবিত্র নগরী। এই শহরেই অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ—যাকে মুসলমানরা নামাজের কিবলা হিসেবে অনুসরণ করেন এবং যার দিকে মুখ করে প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ নামাজ আদায় করেন। কোরআনে মক্কার এই পবিত্র ঘরকে বরকতময় ও মানবজাতির জন্য হেদায়েতের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 0
কিয়ামতের আলামত নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কাবা শরিফের ভবিষ্যৎ পরিণতির বিষয়টিও সামনে আসে। সহিহ হাদিসে কিয়ামতের পূর্ববর্তী সময়ে কাবা শরিফ ধ্বংস হওয়ার একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনা কখন ঘটবে, কোন বছর ঘটবে কিংবা বর্তমান সময়ের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা হাদিসে দেওয়া হয়নি।
### হাদিসে কাবা ধ্বংসের কথা
সহিহ বুখারির একটি হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হাবশা বা ইথিওপিয়া থেকে আগত ‘যুস-সুওয়াইকাতাইন’ নামের এক ব্যক্তি কাবা শরিফ ধ্বংস করবে। সহিহ বুখারিতে এই বর্ণনাটি কাবা ধ্বংসের অধ্যায়ের অধীনে এসেছে। 1
সহিহ মুসলিমেও একই বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হাবশার এমন এক ব্যক্তি কাবা ধ্বংস করবে, যার পা দুটি সরু। অর্থাৎ কাবা শরিফের শেষ সময়ের ধ্বংস সম্পর্কে একাধিক সহিহ বর্ণনায় একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। 2
### কবে ঘটবে এই ঘটনা?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হাদিসে কাবা শরিফ ধ্বংসের নির্দিষ্ট তারিখ বা সাল উল্লেখ করা হয়নি। তাই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি নির্দিষ্ট বছর, মাস কিংবা তারিখ উল্লেখ করে দাবি করে যে ওই সময় কাবা ধ্বংস হবে, তাহলে সেই দাবির পক্ষে সহিহ হাদিসের নির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী কিয়ামতের সঠিক সময় মানুষের অজানা। ফলে কাবা ধ্বংসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা ধর্মীয়ভাবে সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত।
### মক্কা নাকি কাবা—কোনটি ধ্বংস হবে?
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রচলিত আলোচনায় অনেক সময় বলা হয় ‘মক্কা ধ্বংস হবে’। কিন্তু সহিহ বর্ণনাগুলোতে স্পষ্টভাবে যে বিষয়টি এসেছে, তা হলো পবিত্র কাবা শরিফ ধ্বংসের ঘটনা।
অর্থাৎ হাদিসের বক্তব্যকে হুবহু অনুসরণ করলে মূল আলোচনার বিষয় কাবা শরিফের ধ্বংস, পুরো মক্কা নগরীর ধ্বংস নয়। তাই সংবাদ বা ধর্মীয় নিবন্ধে ‘মক্কা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে’—এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থাকা প্রয়োজন।
### কাবার মর্যাদা কোরআনে
কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ৯৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রথম ইবাদতের ঘর হলো বাক্কায় অবস্থিত ঘর, যা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েতের মাধ্যম। পরের আয়াতে সেখানে থাকা বিভিন্ন নিদর্শন এবং সামর্থ্যবান মানুষের ওপর হজের দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। 3
এ কারণে কাবা শরিফের সঙ্গে মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কাবাকে কেন্দ্র করেই হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ অনেক আমল সম্পন্ন হয়।
### কাবা এর আগেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল
কাবা শরিফের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্নির্মাণের ঘটনাও ঘটেছে। সহিহ মুসলিমে আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) কাবার কাঠামো পুনর্নির্মাণের বিষয়ে কথা বলেছেন। পরবর্তীতে ইতিহাসেও বিভিন্ন সংঘাতের সময় কাবা ক্ষতিগ্রস্ত ও পুনর্নির্মিত হওয়ার ঘটনা পাওয়া যায়। 4
তাই হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যতের কাবা ধ্বংসের ঘটনা এবং ইতিহাসে ঘটে যাওয়া ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাকে এক বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
### বর্তমান সময়ের সঙ্গে কি এর সম্পর্ক আছে?
বর্তমানে মক্কা বা কাবা শরিফকে ঘিরে কোনো যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো ঘটনাকে সরাসরি ওই হাদিসে বর্ণিত শেষ যুগের কাবা ধ্বংসের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।
হাদিসে যে ঘটনাটির কথা বলা হয়েছে, সেটি ভবিষ্যতের একটি ঘটনা হিসেবে বর্ণিত। কখন সেটি ঘটবে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকায় বর্তমান কোনো ঘটনার সঙ্গে নিশ্চিতভাবে মিলিয়ে দেওয়া সতর্কতার পরিপন্থী।
### শেষ কথা
সহিহ হাদিসে কিয়ামতের পূর্ববর্তী সময়ে কাবা শরিফ ধ্বংসের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটবে, কত বছর পর ঘটবে বা এর নির্দিষ্ট তারিখ কী—এসব বিষয়ে সহিহ সূত্রে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
তাই কাবা শরিফের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার সময় সহিহ হাদিসের বক্তব্য এবং মানুষের অনুমান—এই দুই বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। ধর্মীয় বিষয়ে যাচাই ছাড়া নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী বা আতঙ্ক ছড়ানোও উচিত নয়।
প্রতিবেদন: ধর্ম ডেস্ক
https://banglarkothabd.com/2026/09/23/1148/
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন