• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারি আটক করে থানায় আসার সময় এস আই সহ নিহত ২ আহত ২ জন মোঃ মুক্তাদির হোসেন, বাংলাদেশ কবিতা সংসদের সাহিত্য সম্মেলন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কবিতা: সমাজের আয়না সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে এমপি মিলন, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস তুমুলিয়া ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম কবিতা:মায়ার পৃথিবী, সত্যের স্রষ্টা — একটি আত্মোপলব্ধির কবিতা রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম তারিখ:১৬/১০/২০২৬ স্বী স্ত্রীর রমীমা মাদক ব্যবসা কালীগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যেগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

শেষ চিঠির ওপারে। লেখিকাঃ নাজনীন শামীম — পর্ব ২৭। দৈনিক বাংলার কথা।

বাংলার কথা ডেস্ক / ৩৭ বার পঠিত
আপডেটঃ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেষ চিঠির ওপারে
নাজনীন শামীম
— পর্ব ২৭

যাকে বাঁচানো হয়েছিল

“তুমি যাকে বাঁচিয়েছিলে, সে আরিয়ান ছিল না।”

মেহরীন চিঠিটার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর ধীরে ধীরে চোখ তুলল আরিয়ানের দিকে।

—তুমি বললে তুমি মারা গিয়েছিলে?

আরিয়ান মাথা নাড়ল।

—হ্যাঁ।

—তাহলে তুমি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছ কীভাবে?

আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।

মেহরীন এবার এক পা এগিয়ে গেল।

—তুমি কে?

আরিয়ান বলল—

—আমি সেই মানুষ, যাকে তোমার স্মৃতি আরিয়ানের জায়গায় বসিয়েছে।

—আমার স্মৃতি?

—না। তোমার সিদ্ধান্ত।

মেহরীন কিছু বুঝতে পারল না।

M-2 এবার টেবিলের কাছে গিয়ে একটা পুরোনো ফাইল বের করল।

ফাইলের ওপর লেখা—

PROJECT M

মেহরীন ফাইলটা খুলতেই প্রথম পাতায় তিনটি নাম।

M-00
M-01
M-02

আর তার নিচে—

SUBJECT: MEHRIN

মেহরীনের হাত কেঁপে উঠল।

—আমি এই প্রজেক্টের অংশ ছিলাম?

M-2 বলল—

—তুমি শুধু অংশ ছিলে না।

—তাহলে?

—তুমি ছিলে এর কেন্দ্র।

মেহরীন কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকল।

তারপর ফাইলের একটা পাতায় চোখ আটকে গেল।

সেখানে একটি ছবি।

ছবির মানুষটাকে দেখেই সে থমকে গেল।

ছবিতে—

আসল আরিয়ান।

মেহরীনের চোখে পানি চলে এল।

—এটাই…

তার কণ্ঠ আটকে গেল।

—এটাই সেই মানুষ।

আরিয়ান ছবিটার দিকে তাকাল।

তার চোখে অদ্ভুত একটা কষ্ট।

মেহরীন সেটা লক্ষ্য করল।

—তুমি ওকে চিনতে?

—হ্যাঁ।

—কীভাবে?

আরিয়ান বলল—

—কারণ ও মারা যাওয়ার আগে শেষবার আমার সঙ্গেই কথা বলেছিল।

মেহরীন অবাক।

—তোমার সঙ্গে?

—হ্যাঁ।

—কী বলেছিল?

আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—

—সে বলেছিল, “মেহরীনকে সত্যিটা জানতে দিও না।”

মেহরীন স্তব্ধ হয়ে গেল।

—কেন?

আরিয়ান উত্তর দিল—

—কারণ সে জানত, সত্যিটা জানলে তুমি আবার নিজেকে দোষী মনে করবে।

মেহরীন ধীরে বলল—

—আমি কি ওর মৃত্যুর জন্য দায়ী?

ঘরে নীরবতা।

M-2 চোখ নামিয়ে ফেলল।

এই নীরবতাই মেহরীনের ভয় আরও বাড়িয়ে দিল।

—বল!

M-2 ধীরে বলল—

—তুমি ওকে মারোনি।

মেহরীনের চোখে স্বস্তির ছায়া এল।

কিন্তু M-2 পরের কথাটা বলতেই সেই স্বস্তি মিলিয়ে গেল।

—কিন্তু তোমার একটা সিদ্ধান্তের কারণেই সে বিপদে পড়েছিল।

মেহরীন চোখ বন্ধ করল।

আবার একটা স্মৃতি ফিরে এল।

হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।

আসল আরিয়ান তার হাত ধরে বলছে—

—“আমাকে বিশ্বাস করো।”

মেহরীন কাঁদতে কাঁদতে বলছে—

—“আমি তোমাকে হারাতে চাই না।”

তারপর দরজা খুলে একজন ভেতরে ঢুকছে।

মুখ দেখা যাচ্ছে না।

কিন্তু তার হাতে—

M-00 লেখা একটি কালো কার্ড।

মেহরীন হঠাৎ চোখ খুলে ফেলল।

—আমি তাকে দেখেছি!

সবাই তাকাল।

—কাকে?

মেহরীন কাঁপা গলায় বলল—

—M-00-কে।

আরিয়ান এগিয়ে এল।

—কে ছিল?

মেহরীন তার দিকে তাকাল।

কিন্তু উত্তর দেওয়ার আগেই তার ফোনে একটি বার্তা এল।

মাত্র একটি বাক্য—

“তুমি আমাকে দেখেছিলে। কিন্তু তুমি জানো না, সেদিন আমি তোমার জন্য কী করেছিলাম।”

মেহরীন বার্তাটার নিচে থাকা ছবিটা খুলল।

ছবিতে হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।

মেহরীন দাঁড়িয়ে আছে।

আসল আরিয়ান তার সামনে।

আর তাদের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে—

M-00।

এবার মুখটা পরিষ্কার।

মেহরীনের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।

কারণ M-00 ছিল এমন একজন—

যাকে সে পাঁচ বছর ধরে নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষ বলে বিশ্বাস করে এসেছে।

চলবে…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন