যাকে বাঁচানো হয়েছিল
“তুমি যাকে বাঁচিয়েছিলে, সে আরিয়ান ছিল না।”
মেহরীন চিঠিটার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে চোখ তুলল আরিয়ানের দিকে।
—তুমি বললে তুমি মারা গিয়েছিলে?
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
—হ্যাঁ।
—তাহলে তুমি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছ কীভাবে?
আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।
মেহরীন এবার এক পা এগিয়ে গেল।
—তুমি কে?
আরিয়ান বলল—
—আমি সেই মানুষ, যাকে তোমার স্মৃতি আরিয়ানের জায়গায় বসিয়েছে।
—আমার স্মৃতি?
—না। তোমার সিদ্ধান্ত।
মেহরীন কিছু বুঝতে পারল না।
M-2 এবার টেবিলের কাছে গিয়ে একটা পুরোনো ফাইল বের করল।
ফাইলের ওপর লেখা—
PROJECT M
মেহরীন ফাইলটা খুলতেই প্রথম পাতায় তিনটি নাম।
M-00
M-01
M-02
আর তার নিচে—
SUBJECT: MEHRIN
মেহরীনের হাত কেঁপে উঠল।
—আমি এই প্রজেক্টের অংশ ছিলাম?
M-2 বলল—
—তুমি শুধু অংশ ছিলে না।
—তাহলে?
—তুমি ছিলে এর কেন্দ্র।
মেহরীন কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকল।
তারপর ফাইলের একটা পাতায় চোখ আটকে গেল।
সেখানে একটি ছবি।
ছবির মানুষটাকে দেখেই সে থমকে গেল।
ছবিতে—
আসল আরিয়ান।
মেহরীনের চোখে পানি চলে এল।
—এটাই…
তার কণ্ঠ আটকে গেল।
—এটাই সেই মানুষ।
আরিয়ান ছবিটার দিকে তাকাল।
তার চোখে অদ্ভুত একটা কষ্ট।
মেহরীন সেটা লক্ষ্য করল।
—তুমি ওকে চিনতে?
—হ্যাঁ।
—কীভাবে?
আরিয়ান বলল—
—কারণ ও মারা যাওয়ার আগে শেষবার আমার সঙ্গেই কথা বলেছিল।
মেহরীন অবাক।
—তোমার সঙ্গে?
—হ্যাঁ।
—কী বলেছিল?
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—
—সে বলেছিল, “মেহরীনকে সত্যিটা জানতে দিও না।”
মেহরীন স্তব্ধ হয়ে গেল।
—কেন?
আরিয়ান উত্তর দিল—
—কারণ সে জানত, সত্যিটা জানলে তুমি আবার নিজেকে দোষী মনে করবে।
মেহরীন ধীরে বলল—
—আমি কি ওর মৃত্যুর জন্য দায়ী?
ঘরে নীরবতা।
M-2 চোখ নামিয়ে ফেলল।
এই নীরবতাই মেহরীনের ভয় আরও বাড়িয়ে দিল।
—বল!
M-2 ধীরে বলল—
—তুমি ওকে মারোনি।
মেহরীনের চোখে স্বস্তির ছায়া এল।
কিন্তু M-2 পরের কথাটা বলতেই সেই স্বস্তি মিলিয়ে গেল।
—কিন্তু তোমার একটা সিদ্ধান্তের কারণেই সে বিপদে পড়েছিল।
মেহরীন চোখ বন্ধ করল।
আবার একটা স্মৃতি ফিরে এল।
হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।
আসল আরিয়ান তার হাত ধরে বলছে—
—“আমাকে বিশ্বাস করো।”
মেহরীন কাঁদতে কাঁদতে বলছে—
—“আমি তোমাকে হারাতে চাই না।”
তারপর দরজা খুলে একজন ভেতরে ঢুকছে।
মুখ দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু তার হাতে—
M-00 লেখা একটি কালো কার্ড।
মেহরীন হঠাৎ চোখ খুলে ফেলল।
—আমি তাকে দেখেছি!
সবাই তাকাল।
—কাকে?
মেহরীন কাঁপা গলায় বলল—
—M-00-কে।
আরিয়ান এগিয়ে এল।
—কে ছিল?
মেহরীন তার দিকে তাকাল।
কিন্তু উত্তর দেওয়ার আগেই তার ফোনে একটি বার্তা এল।
মাত্র একটি বাক্য—
“তুমি আমাকে দেখেছিলে। কিন্তু তুমি জানো না, সেদিন আমি তোমার জন্য কী করেছিলাম।”
মেহরীন বার্তাটার নিচে থাকা ছবিটা খুলল।
ছবিতে হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।
মেহরীন দাঁড়িয়ে আছে।
আসল আরিয়ান তার সামনে।
আর তাদের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে—
M-00।
এবার মুখটা পরিষ্কার।
মেহরীনের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।
কারণ M-00 ছিল এমন একজন—
যাকে সে পাঁচ বছর ধরে নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষ বলে বিশ্বাস করে এসেছে।
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন