দরজার ওপাশে আমার কণ্ঠ
“নিজের কণ্ঠ যখন নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়,
তখন আয়নাতেও মানুষ নিজের মুখকে বিশ্বাস করতে পারে না।”
মেহরীন দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
—আমার… কণ্ঠ?
মায়া মাথা নাড়ল।
—হ্যাঁ।
দরজার ওপাশ থেকে আবার সেই স্বর ভেসে এল।
—মেহরীন, দরজা খোলো।
একই উচ্চারণ।
একই টান।
এমনকি “মেহরীন” ডাকাটাও ঠিক তার নিজের মতো।
মেহরীনের হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
—এটা কীভাবে সম্ভব?
M-2 ফিসফিস করে বলল—
—M-00-এর একটা অংশ ছিল ভয়েস-ম্যাপিং।
—মানে?
—কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর সংরক্ষণ করে পরে হুবহু ব্যবহার করা যেত।
মেহরীন তাকিয়ে রইল।
—আমার কণ্ঠও?
M-2 এবার উত্তর দিল না।
মায়া ধীরে বলল—
—তোমার কণ্ঠ সবচেয়ে বেশি সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
—কেন?
মায়া চোখ নামিয়ে ফেলল।
—কারণ তোমার কণ্ঠ দিয়েই একটা মিথ্যা স্বীকারোক্তি তৈরি করা হয়েছিল।
মেহরীনের চোখ বিস্ফারিত।
—কী স্বীকারোক্তি?
মায়া উত্তর দেওয়ার আগেই দরজার ওপাশ থেকে বলা হলো—
—আমি আরিয়ানকে মেরেছি।
মেহরীনের বুকের ভেতর যেন কেউ বরফ ঢেলে দিল।
—না!
সে এক পা পিছিয়ে গেল।
M-2 দ্রুত তার সামনে দাঁড়াল।
—ওটা রেকর্ডিং।
—কিন্তু কণ্ঠটা আমার!
—কণ্ঠ তোমার হতে পারে। কথাটা তোমার নয়।
মেহরীন নিজের কপাল চেপে ধরল।
হঠাৎ তার মাথায় একটা অস্পষ্ট স্মৃতি ফিরে এল।
একটি অন্ধকার ঘর।
একটি মাইক্রোফোন।
কেউ বলছে—
“শুধু কথাগুলো পড়ে যাও। তারপর তুমি সব ভুলে যাবে।”
মেহরীন চোখ খুলে ফেলল।
—আমি এখানে আগে এসেছিলাম।
M-2 চমকে তাকাল।
—কোথায়?
—এই জায়গায়।
তারপর সে দেয়ালের দিকে তাকাল।
দেয়ালের এক কোণে ছোট্ট একটা কালো দাগ।
মেহরীন সেখানে হাত রাখতেই একটা লুকানো প্যানেল খুলে গেল।
ভেতরে একটি পুরোনো অডিও রেকর্ডার।
মায়া নিঃশ্বাস আটকে বলল—
—এটা তো…
M-2 রেকর্ডারটা হাতে নিল।
তার গায়ে খোদাই করা—
SUBJECT 04 — FINAL MEMORY
মেহরীন কাঁপা গলায় বলল—
—চালাও।
M-2 কিছুক্ষণ দ্বিধা করল।
তারপর বোতাম চাপল।
প্রথমে শুধু শোঁ শোঁ শব্দ।
তারপর একটি মেয়ের কণ্ঠ।
মেহরীনের নিজের কণ্ঠ।
—আমি মেহরীন নই।
মেহরীনের চোখ স্থির হয়ে গেল।
রেকর্ডিং চলতে থাকল।
—আমার আসল নাম…
হঠাৎ শব্দ কেটে গেল।
তারপর আরেকটি কণ্ঠ শোনা গেল।
একজন পুরুষের।
—এই অংশটা কখনো তাকে শুনতে দেওয়া যাবে না।
মেহরীন ফিসফিস করে বলল—
—এই কণ্ঠটা…
মায়া চোখ বন্ধ করল।
—তোমার বাবা।
ঠিক তখনই রেকর্ডারের ভেতর থেকে শেষ একটি শব্দ ভেসে এল।
খুব নিচু স্বরে।
কিন্তু স্পষ্ট—
“মেহরীনকে বাঁচাতে হলে মায়াকে মুছে ফেলো।”
রেকর্ডিং থেমে গেল।
ঘরের ভেতর কেউ নড়ল না।
মেহরীন ধীরে মায়ার দিকে তাকাল।
—তোমাকে… মুছে ফেলতে চেয়েছিল আমার বাবা?
মায়ার চোখে জল জমল।
—না।
সে খুব ধীরে বলল—
—তিনি তোমাকে মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন।
মেহরীন স্তব্ধ হয়ে গেল।
ঠিক তখনই তার ফোনে নতুন একটি বার্তা এল।
প্রেরক—
বাবা
বার্তায় লেখা—
“মেহরীন, তুমি যা শুনেছ তার অর্ধেক সত্য।
বাকি অর্ধেক সত্য জানলে তুমি নিজেকেই আর চিনবে না।”
তার নিচে একটি লোকেশন।
০১ নম্বর কক্ষ।
মেহরীন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল—
—আমি এবার ০১ নম্বর কক্ষে যাব।
M-2 ধীরে বলল—
—তাহলে এবার প্রস্তুত হও।
—কিসের জন্য?
M-2-এর উত্তর শুনে মেহরীনের বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেল।
—নিজের আসল নাম শোনার জন্য।
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন