সম্পাদকীয়____
মাত্র ১০ বছর বয়সের একটি মেয়ে । ক্লাস ফাইভে পড়ে। কি বিভৎস চিন্তাচেতনা
অথচ এই ছোট্ট মেয়েটাকেই দীর্ঘদিন ধরে ইভটিজিং এর শিকার হয়ে আসছিলো ২৩ বছরের যুবক ফয়সালের দ্বারা। কুলাঙ্গার ফয়সাল বারংবার দিচ্ছিল প্রেমের কুপ্রস্তাব।
ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা জেলার বেতাগীতে । গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে মেয়েটি বাথরুমে গেলে ফয়সাল দরজার ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে তাকে স্পর্শ করত শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। ভয়ে মেয়েটি চিৎকার করলে ফয়সাল পালিয়ে যায়।
এরপর মেয়েটির মা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন। কিন্তু জানা গেলো পুলিশ এসে অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করে স্থানীয় মেম্বারের উপস্থিতিতে সালিশ বসিয়ে ঘটনাটি ‘মীমাংসা’ করে দেয়!
আর সেখানেই যেন আরোও ভয়ংকর বিপদের দরজা খুলে যায় মেয়েটির জন্য। সালিশের সময় ফয়সালের মা নাকি হুমকি দিয়েছিল,
“পুলিশ ডাকার ফল পরে ভোগ করতে হবে”।
পরদিনই সেই হুমকির ভয়াবহ পরিণতি দেখলো ১০ বছরের শিশুটি। স্কুল থেকে ফেরার সময় স্কুলের বাউন্ডারির ভেতর ওৎ পেতে থাকা ফয়সাল মেয়েটির ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধরের শিকার হয়।
মেয়েটির সামনের ৩টি দাঁত উপড়ে যায়, আরও ২টি দাঁত ভেঙে যায়।
ফয়সাল পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩২৫ ধারার অপরাধ সংঘটিত করেছে।
যে শিশুটির বয়স এখনো ১০ বছর,
যে স্কুলে পড়ে সে স্কুলেও নিরাপদ নয়?
বাথরুমেও নিরাপদ নয়?
আর সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, প্রথমবার অভিযোগ পাওয়ার পর যদি যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো আজ এই শিশুটিকে হাসপাতালে কাতরাতে হতো না?
অভিযুক্ত ফয়সাল এখনো পলাতক রয়েছে ।
এখন প্রশ্ন শুধু ফয়সালকে গ্রেফতার করার নয়।
প্রথমবার অভিযোগ পাওয়ার পর কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হলো না?
কেন একজন শিশুর ওপর যৌন হয়রানির অভিযোগ সালিশে ‘মীমাংসা’ করা হলো?
অভিযুক্তের পাশাপাশি প্রথম ঘটনায় দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য ও সালিশে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকাও তদন্ত করা জরুরি ও সময়ের দাবী।
একজন শিশুকে নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হওয়া মানে শুধু একটি পরিবারকে ব্যর্থ করা না,
পুরো এটা সমাজের জন্য ভয়ংকর সতর্কবার্তা।
সময় কড়া নাড়ছে সময়ের তালে। এখনই যথাযথ ও উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করা সময়ের দাবী।
নচেৎ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের কে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে পিছপা হবে না যদিও আদালতের কাঠগড়ায় না হোক বিবেকের কাঠগড়ায়……!
অ্যাডভোকেট এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ
সম্পাদক-
দৈনিক বাংলার কথা, ঢাকা।
২০-০৯-২০২৬ইং
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন