• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারি আটক করে থানায় আসার সময় এস আই সহ নিহত ২ আহত ২ জন মোঃ মুক্তাদির হোসেন, বাংলাদেশ কবিতা সংসদের সাহিত্য সম্মেলন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কবিতা: সমাজের আয়না সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে এমপি মিলন, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস তুমুলিয়া ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম কবিতা:মায়ার পৃথিবী, সত্যের স্রষ্টা — একটি আত্মোপলব্ধির কবিতা রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম তারিখ:১৬/১০/২০২৬ স্বী স্ত্রীর রমীমা মাদক ব্যবসা কালীগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যেগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

শেষ চিঠির ওপারে” নাজনীন শামীম — পর্ব ২৯

বাংলার কথা ডেস্ক / ৩৪ বার পঠিত
আপডেটঃ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেষ চিঠির ওপারে”
নাজনীন শামীম
— পর্ব ২৯

M-00

“মায়া M-00 নয়।”

দরজার ওপাশের কণ্ঠটা আবার শোনা গেল—

“M-00 আমি।”

ঘরের সবাই স্থির।

মেহরীন দরজার দিকে তাকিয়ে আছে।

তার বুকের ভেতর শুধু একটা প্রশ্ন—

কে?

মায়া ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল।

—না…

M-2 ফিসফিস করে বলল—

—এটা সম্ভব নয়।

আরিয়ান দরজার দিকে তাকিয়ে বলল—

—তাহলে তুমি এতদিন কোথায় ছিলে?

ওপাশ থেকে উত্তর এল—

—মেহরীনের স্মৃতির ভেতরে।

মেহরীনের শরীর শিউরে উঠল।

—আমার স্মৃতির ভেতরে?

—হ্যাঁ।

—তুমি কে?

কণ্ঠটা এবার খুব শান্ত।

—যে মানুষটাকে তুমি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছিলে।

মেহরীনের চোখ ধীরে ধীরে মায়ার দিকে গেল।

তারপর আরিয়ানের দিকে।

তারপর M-2-এর দিকে।

কিন্তু কারও মুখেই উত্তর নেই।

হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে একটা পুরোনো পরিচয়পত্র ভেতরে ঢুকে এল।

মেহরীন সেটা তুলে নিল।

কার্ডে একটা ছবি।

একজন যুবক।

নিচে লেখা—

নাম: আরিয়ান রহমান
স্ট্যাটাস: মৃত
তারিখ: ১৭ আগস্ট, পাঁচ বছর আগে

মেহরীনের হাত কেঁপে উঠল।

—এটা…

আরিয়ান ধীরে বলল—

—আমার আসল পরিচয়পত্র।

মেহরীন তার দিকে তাকাল।

—তুমি তাহলে কে?

আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—

—আমি তার ভাই।

মেহরীনের চোখ বিস্ফারিত।

—ভাই?

—হ্যাঁ।

—কিন্তু তুমি তো বলেছিলে…

—আমি জানি।

আরিয়ান মাথা নিচু করল।

—আমি তোমাকে সত্যিটা বলতে পারিনি।

মেহরীন এবার মায়ার দিকে তাকাল।

—আর তুমি?

মায়া ধীরে বলল—

—আমি আরিয়ানের বন্ধু ছিলাম।

—তাহলে M-00 কে?

কেউ উত্তর দিল না।

হঠাৎ মেহরীনের ফোনের স্ক্রিন জ্বলে উঠল।

একটি নতুন বার্তা।

“তোমরা সবাই ভুল জায়গায় খুঁজছ।”

তারপর আরেকটি লাইন—

“M-00 কোনো মানুষ নয়।”

মেহরীন স্থির হয়ে গেল।

—আবার?

স্ক্রিনে তৃতীয় লাইন ফুটে উঠল—

“M-00 হলো সেই সিদ্ধান্ত, যেটা তুমি পাঁচ বছর আগে নিয়েছিলে।”

মেহরীন কিছু বুঝতে পারল না।

—সিদ্ধান্ত?

M-2 ধীরে বলল—

—এটাই আসল ব্যাপার।

মেহরীন তার দিকে তাকাল।

—কী?

M-2 বলল—

—M-00 কোনো ব্যক্তি ছিল না। এটা ছিল একটা প্রোটোকল। এমন একটা প্রোটোকল, যার মাধ্যমে তোমার স্মৃতি থেকে একটি নির্দিষ্ট মানুষকে মুছে ফেলা হয়েছিল।

মেহরীনের চোখ বড় হয়ে গেল।

—কাকে?

M-2 উত্তর দিল—

—আরিয়ানকে।

মেহরীন স্তব্ধ।

—কিন্তু আমি তো তাকে মনে রেখেছিলাম!

M-2 বলল—

—তুমি নামটা মনে রেখেছিলে।

—মানুষটাকে নয়।

মেহরীন ধীরে আরিয়ানের দিকে তাকাল।

তার চোখে এবার সন্দেহ নয়—

একটা অদ্ভুত উপলব্ধি।

সে ছবিটা তুলে নিল।

ছবির আসল আরিয়ানের মুখের দিকে তাকাতেই হঠাৎ তার মাথায় একটা সম্পূর্ণ স্মৃতি ফিরে এল।

বৃষ্টির রাত।

নীল ছাতা।

প্রথম দেখা।

তারপর আরিয়ানের হাসি।

আর মেহরীনের নিজের কণ্ঠ—

“তুমি মারা গেলেও আমি তোমাকে ভুলব না।”

স্মৃতিটা হঠাৎ বদলে গেল।

হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।

মেহরীন কাঁদছে।

আরিয়ান বলছে—

“আমাকে ভুলে যাও। তাহলেই তুমি বাঁচবে।”

মেহরীন কাঁদতে কাঁদতে বলছে—

“না।”

তারপর দরজা খুলছে।

M-00-এর প্রোটোকল শুরু হচ্ছে।

সবকিছু অন্ধকার।

মেহরীন হঠাৎ বাস্তবে ফিরে এল।

তার চোখে পানি।

সে ধীরে বলল—

—আমি নিজেই তাকে ভুলতে চেয়েছিলাম…

M-2 মাথা নাড়ল।

—হ্যাঁ।

—কিন্তু কেন?

কেউ উত্তর দেওয়ার আগেই দরজা খুলে গেল।

দরজার ওপাশে কেউ নেই।

শুধু মেঝেতে পড়ে আছে একটা চিঠি।

মেহরীন চিঠিটা তুলে নিল।

শেষ লাইনে লেখা—

“এখনও একটা সত্য তুমি জানো না—যে রাতে আরিয়ান মারা যায়, সেই রাতে তুমি একা ছিলে না।”

মেহরীন ধীরে ধীরে চিঠিটা নামিয়ে ফেলল।

তারপর পিছনে তাকাল।

ঘরে থাকা চারজনের দিকে।

কিন্তু তার চোখ গিয়ে থামল—

M-2-এর ওপর।

চলবে…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন