• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারি আটক করে থানায় আসার সময় এস আই সহ নিহত ২ আহত ২ জন মোঃ মুক্তাদির হোসেন, বাংলাদেশ কবিতা সংসদের সাহিত্য সম্মেলন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কবিতা: সমাজের আয়না সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে এমপি মিলন, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস তুমুলিয়া ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম কবিতা:মায়ার পৃথিবী, সত্যের স্রষ্টা — একটি আত্মোপলব্ধির কবিতা রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম তারিখ:১৬/১০/২০২৬ স্বী স্ত্রীর রমীমা মাদক ব্যবসা কালীগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যেগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

শেষ চিঠির ওপারে। লেখিকাঃ নাজনীন শামীম — পর্ব—২১

বাংলার কথা ডেস্ক / ৩৪ বার পঠিত
আপডেটঃ সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

🌑 শেষ চিঠির ওপারে
নাজনীন শামীম — পর্ব—২১

ছবির মানুষ
“এবার তোমার মনে পড়বে, আমি আসলে কে।”
আরিয়ানের কথাটা ঘরের ভেতর যেন আটকে রইল।
মেহরীন তার দিকে তাকিয়ে আছে।
কিন্তু আশ্চর্য—
তার চোখে আরিয়ানের মুখটা দেখা যাচ্ছে না।
দেখা যাচ্ছে পাঁচ বছর আগের সেই ছবির মানুষটাকে।
একই চোখ।
একই ভ্রু।
একই মুখের গঠন।
শুধু ছবির মানুষটির চোখে এমন এক শূন্যতা, যা আরিয়ানের চোখে সে কখনো দেখেনি।
মেহরীন ছবিটা আবার হাতে নিল।
ছবির পেছনে কিছু লেখা আছে কি না দেখতে সেটাকে উল্টে দিল।
সাদা কাগজের পেছনে মাত্র তিনটি অক্ষর—
M.R.
তার নিচে একটি তারিখ।
১৭ আগস্ট।
মেহরীনের আঙুল কেঁপে উঠল।
—এই তারিখটা…
মায়া দ্রুত এগিয়ে এল।
—কী হয়েছে?
মেহরীন উত্তর দিল না।
তার মাথার ভেতর হঠাৎ একটা শব্দ ফিরে এলো।
হাসপাতালের করিডোর।
দূরে কারও পায়ের শব্দ।
তার নিজের কণ্ঠ—
“তুমি যদি আমাকে ভুলে যাও, তবুও আমি তোমাকে খুঁজে নেব।”
তারপর একটা দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ।
মেহরীন চোখ চেপে ধরল।
—আমি এটা আগে শুনেছি।
আরিয়ান এবার প্রথমবারের মতো অস্থির হয়ে উঠল।
—কী শুনেছ?
—আমার নিজের কণ্ঠ।
M-2 চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।
হঠাৎ সে বলল—
—স্মৃতি ফিরে আসছে না।
মেহরীন তাকাল।
—তাহলে?
M-2 ধীরে বলল—
—স্মৃতি তোমাকে খুঁজে বের করছে।
ঘরের বাতাস যেন ভারী হয়ে গেল।
মেহরীন ছবিটার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—
—M.R. কার নাম?
কেউ উত্তর দিল না।
সে এবার আরিয়ানের দিকে তাকাল।
—তুমি জানো।
আরিয়ান চোখ সরিয়ে নিল।
—জানি।
—তাহলে বলো।
—এখন না।
—কেন?
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—
—কারণ তুমি যদি নামটা জানতে পারো, তাহলে পরের স্মৃতিটাও ফিরে আসবে।
মেহরীন ধীরে বলল—
—আর সেই স্মৃতিতে কী আছে?
আরিয়ান এবার তার দিকে তাকাল।
—তুমি কাকে হারিয়েছিলে, সেটা।
ঠিক তখনই—
টিং!
মেহরীনের ফোনে আবার একটি ছবি এল।
কিন্তু এবার ছবিটা দেখে তার বুক ঠান্ডা হয়ে গেল।
ছবিতে হাসপাতালের সেই একই করিডোর।
দেয়ালে স্পষ্ট লেখা—
ROOM 03
আর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুজন মানুষ।
একজন মেহরীন।
অন্যজন সেই অচেনা মানুষটি।
কিন্তু ছবির সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় সেটা নয়।
ছবির ডান পাশে আয়নার প্রতিবিম্বে দাঁড়িয়ে আছে—
আরিয়ান।
অথচ ছবির তারিখ পাঁচ বছর আগের।
মেহরীন ধীরে ধীরে ফোনটা নামিয়ে ফেলল।
—আরিয়ান…
সে কিছু বলতে পারল না।
কারণ ছবির নিচে এবার নতুন একটি বাক্য ফুটে উঠেছে—
“তুমি ভুল মানুষকে বাঁচিয়েছিলে।”
ঘরের সবাই নিস্তব্ধ।
আরিয়ান ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর খুব আস্তে বলল—
—না, মেহরীন।
—তুমি ভুল মানুষকে বাঁচাওনি।
সে এক মুহূর্ত থামল।
—তুমি ভুল মানুষকে মনে রেখেছ।
চলবে…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন