একই রাতে একই জায়গায়—মেহরীন নিজেকেই দেখেছিল।
তাহলে পাঁচ বছর আগে হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি আসলে কে ছিল?
মেহরীনের 4টমাথার ভেতর দৃশ্যটা বারবার ফিরে আসছিল।
দরজা।
ঘড়িতে ২টা ১৭।
মায়ার আতঙ্কিত মুখ।
আর তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মেহরীন।
সে চোখ বন্ধ করল।
—আমি ওকে দেখেছিলাম…
মায়া ধীরে বলল—
—হ্যাঁ।
—কিন্তু ও কে?
মায়া উত্তর দিল না।
আরিয়ান বলল—
—M-2।
মেহরীন তার দিকে তাকাল।
—তাহলে সে শুধু আমার স্মৃতি বহন করছে না?
—না।
—তাহলে?
আরিয়ান নিচু গলায় বলল—
—সে তোমার কিছু সিদ্ধান্তও জানে।
মেহরীনের বুক কেঁপে উঠল।
—কী সিদ্ধান্ত?
মায়া এবার সামনে এসে দাঁড়াল।
—সেদিন রাতে তুমি একজনকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে চেয়েছিলে।
—কাকে?
মায়া বলল—
—যে মানুষটা তোমার ভাইয়ের পরিচয় ব্যবহার করছিল।
মেহরীন থমকে গেল।
—আমার ভাইয়ের পরিচয়?
ঠিক তখন তার ফোনে একটি ছবি এল।
ছবিতে M-2 দাঁড়িয়ে আছে হাসপাতালের সেই ০৩ নম্বর কক্ষের সামনে।
তার হাতে একটি চিঠি।
মেহরীন ছবিটা বড় করল।
চিঠির ওপর লেখা—
“মূল মেহরীনকে সত্যিটা জানানো যাবে না।”
তার নিচে একটি স্বাক্ষর।
মেহরীন স্বাক্ষরটা দেখেই নিঃশ্বাস বন্ধ করে ফেলল।
মায়া।
সে ধীরে মায়ার দিকে তাকাল।
—তুমি আমাকে কেন মিথ্যা বলেছিলে?
মায়ার চোখে এবার ভয়।
—কারণ আমি একা সিদ্ধান্ত নিইনি।
—তাহলে কে নিয়েছিল?
মায়া কিছু বলার আগেই হাসপাতালের পুরোনো ফোনটা বেজে উঠল।
একবার।
দুবার।
তিনবার।
মায়া ফোনটা তুলতেই ওপাশ থেকে একটি কণ্ঠ—
—সময় শেষ। M-2 এখন তোমার কাছে আসছে।
কল কেটে গেল।
মেহরীন দরজার দিকে তাকাল।
বাইরে ধীরে ধীরে পায়ের শব্দ এগিয়ে আসছে।
একটা।
দুইটা।
তিনটা।
তারপর দরজার ওপাশ থেকে মেহরীনের নিজের কণ্ঠ—
—মেহরীন, এবার আমাদের দুজনের একজনকেই সত্যিটা মনে রাখতে হবে।
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন