সত্যের দরজা খুলতে গিয়ে মেহরীন বুঝল—
যাকে এতদিন প্রশ্ন করেছে, সেই আরিয়ানও হয়তো এই রহস্যের বন্দি।
মেহরীন ছবিটা শক্ত করে ধরে বলল—
—তাহলে পুরো সত্যিটা কী?
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—
—তোমার স্মৃতি মুছে ফেলা হয়নি, মেহরীন। তোমার স্মৃতিকে ভাগ করা হয়েছিল।
—মানে?
—তোমার জীবনের কিছু অংশ তোমার কাছেই রাখা হয়েছিল। আর কিছু অংশ… অন্য একজনের মধ্যে।
মেহরীনের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
—M-2?
আরিয়ান মাথা নেড়ে বলল—
—হ্যাঁ।
মেহরীন ধীরে বসে পড়ল।
—কিন্তু কেন?
আরিয়ান উত্তর দেওয়ার আগেই ঘরের বাতি নিভে গেল।
অন্ধকারে মায়ার কণ্ঠ শোনা গেল—
—কারণ সেদিন রাতে তুমি যা দেখেছিলে, সেটা কোনো একজন মানুষকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
মেহরীন চমকে উঠল।
মায়া দরজার কাছে দাঁড়িয়ে।
—তুমি এখানে?
মায়া ধীরে এগিয়ে এসে বলল—
—এবার তোমাকে সব বলতেই হবে।
—১৭ জুলাই রাতে কী হয়েছিল?
মায়া চোখ নামিয়ে বলল—
—তুমি একজনকে বাঁচাতে হাসপাতালে গিয়েছিলে।
—কাকে?
—যাকে তুমি নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষ ভাবতে।
মেহরীনের বুক ধক করে উঠল।
—আর তারপর?
মায়া উত্তর দিল না।
বরং তার হাতে থাকা একটি পুরোনো ফাইল মেহরীনের দিকে বাড়িয়ে দিল।
ফাইলের শেষ পাতায় একটি ছবি।
মেহরীন ছবিটা দেখে জমে গেল।
ছবিতে সে নিজে।
তার পাশে মায়া।
আর একটু দূরে—
একজন মানুষ, যার মুখ কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া।
ছবির নিচে লেখা—
“সাক্ষী: মেহরীন।”
মেহরীন কাঁপা গলায় বলল—
—মুখটা মুছে দেওয়া হলো কেন?
মায়া ধীরে উত্তর দিল—
—কারণ মুখটা তুমি চিনতে পারলে, তোমার সব স্মৃতি একসঙ্গে ফিরে আসবে।
ঠিক তখন মেহরীনের মাথায় হঠাৎ সেই রাতের একটি দৃশ্য ঝলকে উঠল।
একটি দরজা।
রাত ২টা ১৭।
মায়া চিৎকার করছে—
“মেহরীন, পেছনে তাকিও না!”
কিন্তু মেহরীন তাকিয়েছিল।
আর সে দেখেছিল—
নিজেকেই।
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন