একটা মুখ আয়নায় দেখা গেল—মেহরীনের নিজের মুখ।
কিন্তু সেই চোখে ছিল এমন এক আতঙ্ক, যা মেহরীন কখনো নিজের চোখে দেখেনি।
ঘড়িতে ২টা ১৭ বাজতেই আয়নার ভেতরের মেয়েটি ধীরে ধীরে হাত তুলল।
তার আঙুল গিয়ে থামল আয়নার এক কোণে।
মেহরীন তাকিয়ে দেখল—
কাঁচের ওপর ভেসে উঠেছে একটি সংখ্যা।
০৩
মেহরীন পিছিয়ে গেল।
ঠিক তখনই আয়নাটা হঠাৎ অন্ধকার হয়ে গেল।
ঘরের আলো নিভে গেল।
কয়েক সেকেন্ড পর আলো ফিরতেই আয়নার সামনে কেউ নেই।
কিন্তু মেঝেতে পড়ে আছে একটি ছোট কাগজ।
মেহরীন তুলে নিল।
তার নিজের হাতের লেখায় লেখা—
“মায়াকে বিশ্বাস করো না।”
মেহরীনের বুক কেঁপে উঠল।
মায়া?
যে মায়াকে নিয়ে এতক্ষণ রহস্য তৈরি হচ্ছে, সে কি সত্যিই কিছু লুকাচ্ছে?
ঠিক তখন মায়ার ফোন এল।
মেহরীন কল ধরল।
—মায়া, তুমি কি আমার সঙ্গে কিছু লুকাচ্ছ?
ওপাশে দীর্ঘ নীরবতা।
তারপর মায়া বলল—
—তুমি আয়নায় কী দেখেছ?
মেহরীনের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
—তুমি জানলে কীভাবে?
মায়ার কণ্ঠ এবার কেঁপে উঠল।
—কারণ পাঁচ বছর আগে ঠিক রাত ২টা ১৭ মিনিটে তুমিও একই জিনিস দেখেছিলে।
—আমি কী দেখেছিলাম?
মায়া উত্তর দিল না।
মেহরীন চাপা গলায় বলল—
—মায়া, সত্যিটা বলো।
ওপাশ থেকে খুব আস্তে উত্তর এল—
—তুমি নিজের মুখ দেখোনি, মেহরীন। তুমি দেখেছিলে সেই মেয়েটাকে, যে তোমার জায়গা নিয়েছিল।
কল কেটে গেল।
মেহরীন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে ফাইলটা আবার খুলল।
শেষ পাতায় এতক্ষণ যে অংশটা চোখে পড়েনি, সেখানে লেখা—
“Patient M — Transfer successful.”
তার নিচে আরেকটি নাম।
“Subject M-2.”
মেহরীনের বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
কারণ—
M-2-এর ছবিটা ছিল তারই।
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন