Writing
যে কণ্ঠটাকে মেহরীন চিনতে পারছে না,
সেটাই হয়তো তার সবচেয়ে পুরোনো পরিচয়ের দরজা খুলতে এসেছে।
মেহরীনের হাত তখনও দরজার হাতলে।
বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা আবার বলল—
—দরজা খোলো। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
কণ্ঠটা অচেনা।
তবু কোথাও যেন অদ্ভুত পরিচিত।
মেহরীন দরজার পাশে রাখা ছোট আয়নাটার দিকে তাকাল। নিজের মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে আছে।
সে ধীরে জিজ্ঞেস করল—
—আপনি কে?
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর উত্তর এল—
—যাকে তুমি পাঁচ বছর আগে মেরে ফেলেছিলে।
মেহরীনের বুকের ভেতরটা যেন হঠাৎ থেমে গেল।
—আমি… কাউকে মারিনি!
বাইরে থেকে চাপা হাসি।
—তোমার স্মৃতি তো সেটাই বলে, তাই না?
মেহরীন এক পা পিছিয়ে গেল।
—আপনি কী চান?
—একটা জিনিস।
—কী?
—তোমার কাছে থাকা সেই ছবিটা।
মেহরীনের চোখ সঙ্গে সঙ্গে টেবিলের ওপর রাখা ছবিটার দিকে গেল।
লোকটা জানে ছবির কথা!
সে দ্রুত ছবিটা হাতে তুলে নিল।
ঠিক তখন দরজার নিচ দিয়ে আরেকটা খাম ভেতরে ঢুকে এল।
মেহরীন কাঁপা হাতে খামটা খুলল।
ভেতরে একটি মাত্র ছবি।
ছবিতে—
একটি হাসপাতালের করিডোর।
দূরে দাঁড়িয়ে আছে মেহরীন।
তার পাশে একজন নারী।
নারীটির মুখ স্পষ্ট নয়।
কিন্তু ছবির পেছনে লেখা—
“০৩ নম্বর কক্ষ।
রাত ২টা ১৭ মিনিট।
মেমোরি ট্রান্সফারের আগে শেষ দেখা।”
মেহরীনের চোখ আটকে গেল শেষ শব্দটায়।
মেমোরি ট্রান্সফার।
হঠাৎ বাইরে দাঁড়ানো মানুষটা বলল—
—এখনও কি মনে হয়, তুমি আমাকে চেনো না?
মেহরীন দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর খুব আস্তে বলল—
—তুমি… কে?
ওপাশ থেকে উত্তর এল—
—তোমার সেই স্মৃতি, যেটাকে তুমি নিজেই মুছে ফেলেছিলে।
মেহরীনের হাত থেকে ছবিটা পড়ে গেল।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে—
দরজার হাতলটা ধীরে ধীরে ঘুরতে শুরু করল।
চলবে…
পর্ব ১১
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন