মাদকের বিষাক্ত ছোবল এবং আমাদের থমকে যাওয়া ভবিষ্যৎ
— জামিনুর ইসলাম
একটি সমাজ কতটা সুস্থ ও প্রাণবন্ত, তা নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের গতিশীলতার ওপর। কিন্তু বর্তমান সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার আমাদের সেই অগ্রযাত্রাকে থমকে দিচ্ছে। কৌতূহল, সঙ্গদোষ, তীব্র মানসিক হতাশা কিংবা পারিবারিক সামাজিক বন্ধনের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে মাদক আজ ছড়িয়ে পড়েছে পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে শুরু করে তথাকথিত উচ্চবিত্তের ড্রয়িংরুম পর্যন্ত।
সময়ের সাথে সাথে মাদক সেবনের ধরন ও উপায়ে এসেছে মারাত্মক এবং উদ্বেগজনক পরিবর্তন। প্রথাগত মাদকের স্থান দখল করেছে বিভিন্ন সংশ্লেষিত বা সিন্থেটিক ড্রাগ, যা শারীরিক ও মানসিকভাবে তরুণদের দ্রুত নিঃশেষ করে দিচ্ছে। এর ফলে কেবল একজন ব্যক্তি নিজেই ধ্বংস হচ্ছেন না, বরং তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে পুরো একটি পরিবারের ভিত্তি। চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতা থেকে শুরু করে নৃশংস অপরাধের পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে এই মাদকাসক্তি। ফলে সমাজ আজ এক তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মুখোমুখি।
এই ঘাতক সংকট থেকে উত্তরণের পথ সহজ নয়, তবে অসম্ভবও নয়। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযান দিয়ে এই ব্যাধি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা ও উন্মুক্ত সামাজিক সংলাপ। সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহমর্মীতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, তরুণদের ইতিবাচক কাজে যুক্ত রাখতে পর্যাপ্ত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
মাদকের এই বিষাক্ত ছোবল থেকে আমাদের আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এখনই। কেবল ব্যক্তি বা সরকারি উদ্যোগ নয়, সমাজকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ও দৃঢ় অঙ্গীকার। তরুণদের হাতে মাদকের মরণাস্ত্রের বদলে বই, খেলাধুলার সরঞ্জাম ও স্বপ্নের মশাল তুলে দেওয়াই হোক আমাদের আজকের প্রধান লক্ষ্য।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন