রাত বারোটা হুলস্থুল
পর্ব ১
রাত তখন ঠিক বারোটা। চারদিকে এমন নিস্তব্ধতা, যেন পুরো গ্রাম ঘুমিয়ে পৃথিবী ভুলে গেছে।
খাদিজা সবে বাইরে থেকে এসে ঘরে ঢুকেছে। ঘরে ঢুকেই শাড়িটা খুলে রেখে আরাম করার জন সায়া-ব্লাউজ পরে বিছানা গোছাতে গোছাতে তার হাজবেন্ডের সাথে গল্প করছিল। দু’জনের গল্পও জমে উঠেছে—কখনো হাসাহাসি, কখনো টুকটাক খুনসুটি।
ঠিক এমন সময় বাইরে থেকে হঠাৎ করেই একটা চিৎকার ভেসে এলো—
— “নশটান গো! বাড়ি ডাকাইত ঢুকসে! ডাকাইত!”
চিৎকারটা ছিল সিরাজের।
মূলত সে গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটা গুলির শব্দ শুনেছিল। তারপর “ধুম!” কnরে এক আওয়াজ হলো যে কারো দরজা ভেঙে ফেলছে আর সিরাজের বুঝতে. রইল না যে —ডাকাত ঢুকেছে!
ব্যস, আর দেরি না করে সে সাইকেল সেখানেই রেখে দৌড় শুরু করলো সোজা এসে নিজেদবাড়ি পৌঁছালো । গ্রামে ঢুকেই nnn nnnyহাঁপাতে সবাইকে ডাকতে লাগল—
—nn “ওইn বের হও! ডাকাইত! নশটান বাড়ি ডাকাইত ঢুকসে!”
মুহূর্তের মধ্যে গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হতে শুরু করল।
আর ঠিক তখনই, না ভেবেই সবার আগে দৌড়ে বেরিয়ে এলো খাদিজা!
সমস্যা হলো, তার তখনো খেয়ালই নেই যে সে শাড়ি ছাড়াই শুধু সায়া-ব্লাউজ পরে বের হয়ে গেছে!
ভয়, উত্তেজনা আর রাগে তার মাথা এমন গরম হয়ে গিয়েছিল যে নিজের অবস্থার খবরই নেই।
তার হাজবেন্ড পেছন থেকে “এই! এই!” বলে ডাকতে ডাকতে দাঁড়িয়ে রইল, কিন্তু খাদিজা তখন গ্রামের বজ্রপাত।
সে এমন দৌড় দিল যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই নশটান গ্রামে পৌঁছে গেল।
গিয়ে দেখে পুরো গ্রামের দরজাগুলো বাইরে থেকে চিটকিনি মারা!
ভেতর থেকে সবাই দরজা ধাক্কাচ্ছে—
— “ও মা! কেউ দরজা খোল!”
— “বাঁচাও!”
— “আমারে বাইর করো!”
খাদিজা এক সেকেন্ডও দেরি করল না।
ধপাধপ একটার পর একটা দরজা খুলতে শুরু করল।
এদিকে ডাকাতরা একটা বাড়িতে ঢুকে ঘরে সবার হাত-পা বেঁধে রেখে মালপত্র গুছাতে ব্যস্ত । তারা আগেই গ্রামের সবার দরজায় বাইরে থেকে চিটকিনি মেরে রেখেছিল, যেন কেউ বের হতে না পারে।
আর পাশে থেকে একটা ঢেঁকি উঠিয়ে নিয়ে সেটা দিয়ে দরজা সজরে একটা আঘাত করল ধুম করে একটা শব্দ হল আর সঙ্গে সঙ্গে দরজাটা খুলে গেল । এখন তারা সেই ঘরেই ডাকাতি করছে
হঠাৎ তারা শুনতে পেল—বাইরে কে যেন সব দরজা খুলে দিচ্ছে!
এক ডাকাত তো ভয় পেয়ে বলেই ফেলল—
— “ওস্তাদ, মনে হয় পুরো গ্রাম আইসা পড়ছে!”
আরেকজন বলল—
— “ দেখ আবার পুলিশ নিয়ে আসলো নাকি
তারপর যা হবার তাই হলো।
ডাকাত রা সেই বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে দেওয়াল টোপকে বাইরে আসে নিজেদের গাড়িতে চড়ে
তাদের গাড়ির শব্দ শুনেই খাদিজা আবার পেছনে দৌড় দিল।
তার মাথায় তখন একটাই চিন্তা—
“আজ ধরতেই হবে!”
ডাকাতের হাতে বন্দুক আছে, গুলি করতে পারে, রাত বারোটা বাজে সে একা একটা মেয়ে —এসব তার মাথায় ছিল না।
সে যে শাড়ি ছাড়াই পুরো গ্রাম তোলপাড় করছে, সেটাও ভুলে গেছে।
এদিকে তার হাজবেন্ড শাড়িটা হাতে নিয়ে পেছন পেছন দৌড়াচ্ছে।
তার অবস্থা তখন গ্রামের সবচেয়ে অসহায় মানুষের মতো।
একদিকে বউ ডাকাত ধরতে যাচ্ছে,
আরেকদিকে সে চিৎকার করছে—
— “এই দাঁড়াও! আগে শাড়িটা পরো!”
গ্রামের মানুষ পরে বলেছিল,
সেদিন নাকি দুইটা জিনিস সবচেয়ে দ্রুত দৌড়াইছিল—
একটা ডাকাতের গাড়ি,
আরেকটা খাদিজার স্বামির হাতে শাড়ি নিয়ে!
অনেক দূর যাওয়ার পর অবশেষে খাদিজা তার স্বামীর ডাক শুনতে পেল।
হঠাৎ করেই তার হুঁশ ফিরে এলো।
সে থেমে নিজের দিকে তাকিয়েই প্রায় লাফ দিয়ে উঠল—
— “হায় আল্লাহ! আমি এই অবস্থায় বাইর হইছি?!”
তার স্বামী হাঁপাতে হাঁপাতে এসে শাড়িটা তার গায়ে জড়িয়ে দিল। তারপর রাগে, ভয়ে আর লজ্জায় একসাথে বলল—
— “তুই কি মানুষ না ঝড়? ডাকাতরে ধরতে গেছিস ভালো কথা, কিন্তু তারা যদি গুলি মারত তোকে তোর তোর মনে ভয় দেওয়ার কিছু নেই ? আর শাড়ি ছাড়া এভাবে কে দৌড়ায়? মাথায় একফোঁটা আক্কেল আছে?”
খাদিজা তখন চুপ।
কারণ তার নিজেরই মনে হচ্ছিল—
ডাকাতের চেয়ে বড় কাণ্ড সে নিজেই করে ফেলেছে।
পরের দিন পুরো গ্রামে একটাই আলোচনা।
কেউ বলছে—
— “খাদিজা না থাকলে সেদিন বড় ক্ষতি হইতো!”
আবার কেউ হেসে বলছে—
— “ডাকাতদের গুলি দেখে এত ভয় পায় নাই, যতটা ভয় পাইছি সায়া-ব্লাউজ পরে দৌড়ানো খাদিজারে দেখে!”
আর গ্রামের বয়স্ক এক চাচি তো সোজাই বলে দিল—
— “উলঙ্গ তো হয় নাই! কাপড় তো আছিল! মাইয়াডারে নিয়ে
এত হাসার কী আছে?”
এরপর থেকে গ্রামে ডাকাতের গল্প যত না হয়েছে,
তার চেয়ে বেশি হয়েছে—
“শাড়ি হাতে স্বামী আর সামনে ডাকাত তাড়া করা খাদিজা” এই কিংবদন্তির গল্প!
পর্ব ২ চলবে,,,,,,,
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন