• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারি আটক করে থানায় আসার সময় এস আই সহ নিহত ২ আহত ২ জন মোঃ মুক্তাদির হোসেন, বাংলাদেশ কবিতা সংসদের সাহিত্য সম্মেলন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কবিতা: সমাজের আয়না সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে এমপি মিলন, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস তুমুলিয়া ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম কবিতা:মায়ার পৃথিবী, সত্যের স্রষ্টা — একটি আত্মোপলব্ধির কবিতা রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম তারিখ:১৬/১০/২০২৬ স্বী স্ত্রীর রমীমা মাদক ব্যবসা কালীগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যেগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

অপেক্ষার শেষ স্টেশন, কবিঃ ​জামিনুর ইসলাম। দৈনিক বাংলার কথা।

বাংলার কথা ডেস্ক / ৯৫ বার পঠিত
আপডেটঃ বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

​অপেক্ষার শেষ স্টেশন
​জামিনুর ইসলাম

​শহরের ব্যস্ত রেলস্টেশন। চারদিকে মানুষের হুড়োহুড়ি, ট্রেনের বাঁশি আর হকারদের চিৎকার। এই শোরগোলের মাঝেও প্ল্যাটফর্মের এক কোণে পাথরের বেঞ্চিতে স্থাণুর মতো বসে আছেন সুমন সাহেব। তাঁর পরনে ইস্ত্রি করা ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি, হাতে একটি পুরোনো চামড়ার ব্যাগ।
​গত দশ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার বিকেলে তিনি এখানে আসেন। স্টেশনের মাস্টার থেকে শুরু করে ঝালমুড়ি বিক্রেতা—সবাই তাঁকে চেনে। কেউ কেউ আড়ালে হাসাহাসি করে বলে, “পাগল বুড়ো!” কিন্তু সুমনের সেদিকে খেয়াল নেই। তাঁর চোখজোড়া নিবদ্ধ থাকে ঠিক পাঁচটার লোকাল ট্রেনের দিকে।
​দশ বছর আগে এই স্টেশনেই তাঁর হাত ছেড়ে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছিল একমাত্র ছেলে বক্কর। বড় অভিমানী ছিল ছেলেটা। সামান্য কথা-কাটাকাটির জেরে ঘর ছেড়েছিল সে। যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিল, “আর কোনোদিন ফিরব না।”
​আজ ট্রেনের কামরা থেকে একে একে সবাই নেমে গেল। ভিড় পাতলা হয়ে এল। সুমন বরাবরের মতো উঠে দাঁড়ালেন। ঝাপসা চোখে শেষ কামরাটার দিকে তাকালেন। হঠাৎ দেখলেন, একটি চেনা অবয়ব ট্রেনের দরজা ধরে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক বক্করের মতো চিবুক, সেই একই রকম উসকোখুসকো চুল।
​ছেলেটি কাছে এগিয়ে এসে নিচু স্বরে ডাকল, “বাবা?”
​সুমনের ঠোঁট দুটো থরথর করে কেঁপে উঠল। চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল তপ্ত জল। তিনি কোনো অভিযোগ করলেন না; শুধু কাঁপা হাতে ছেলের কাঁধ ছুঁয়ে বললেন, “বড্ড দেরি করলি রে খোকা! চল, তোর মা পথ চেয়ে বসে আছে।”
​অস্তগামী সূর্যের আলোয় স্টেশনের দীর্ঘ ছায়াগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। আজ আর ব্যাগটা হাতে নয়, ছেলের কাঁধে। এক দশক পর একজোড়া ছায়া স্টেশনের বাইরে বেরোনোর পথ ধরল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন