নোয়াখালী প্রতিনিধি | ১৫ আগস্ট ২০২৬
ভালো জীবনের আশায় ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের কামাল উদ্দিন বাবুল। রোমে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। কিন্তু একটি মর্মান্তিক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় স্ত্রী ও পাঁচ বছরের মেয়েসহ প্রাণ হারিয়েছেন কামাল উদ্দিন।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে ইতালি থেকে বিমানে করে তিনজনের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। সকাল ৮টার দিকে মরদেহগুলো হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে স্বজনেরা সেগুলো নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।
তিনটি কফিন বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। শোকের আবহে বিকেলে স্থানীয় শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তিনজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।
নিহত কামাল উদ্দিনের বাবা সিরাজুল ইসলাম ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর। তিনি জানান, কিছুদিন আগেই তাঁর ছেলে দেশে এসে নিজের হাতে পারিবারিক কবরস্থানের মাটি সংস্কার করেছিলেন।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, যে কবরস্থানের যত্ন তাঁর ছেলে নিজ হাতে নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেখানেই স্ত্রী ও মেয়ের পাশে তাঁকে দাফন করতে হবে—এটি তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, দেশে থাকাকালে কামাল উদ্দিন পারিবারিক কবরস্থান সংস্কারের কাজ করেছিলেন। সেই কবরস্থানেই এখন তাঁর শেষ ঠিকানা হয়েছে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রাজধানী রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কামাল উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তার ও পাঁচ বছরের মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশার মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনায় তাঁদের ছেলে অয়নও আহত হয়। চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়ে উঠেছে। বাবা, মা ও বোনকে হারিয়ে বর্তমানে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে অয়ন রয়েছে।
রোমে নিহত তিনজনের জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেশে তাঁদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি চক্রের হুমকি দেওয়া একটি চিঠি পাওয়া গিয়েছিল। ওই চিঠিতে অর্থ ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয়েছিল এবং তা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
এ ঘটনায় স্থানীয় থানা ও সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে আগের ওই হুমকির সঙ্গে ইতালিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও সন্দেহ রয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন