শেষ বিদায়ের আগে ভালোবেসো
নির্মল ভৌমিক চাষীবন্ধু
জীবদ্দশায় পাইনি যদি তোমারে,
মরণের পরে শোক-তাপ সবই মিছে;
যে ভালোবাসা চেয়েছিল একটুখানি আশ্রয়,
সে হারিয়ে গেছে নীরব সময়ের পিছুপিছু।
তোমারে ভালোবেসে আমার যা হারাবার,
হারিয়ে গেছে সেই দুরন্ত কৈশোরে;
প্রথম কাঁপা হৃদয়, প্রথম অনিদ্রা রাত,
ডুবে আছে আজও স্মৃতির গভীর অতলে।
যখন ছিলাম তোমার দরজার প্রহরী,
তখন তুমি ফেরাওনি একটিবার চোখ;
আজ কেন অশ্রুর বন্যা বইয়ে দাও,
যখন নিভে গেছে আমার জীবনের আলোক?
আমি তো চাইনি রাজপ্রাসাদের সুখ,
চাইনি অলংকার কিংবা সোনার মুকুট;
চেয়েছিলাম শুধু দুটি নির্ভরতার হাত,
একটি ভালোবাসার নিঃশব্দ অঙ্গীকারটুকু।
তুমি বুঝোনি আমার নীরব ভাষা,
বুকের ভেতর জমানো হাজার কবিতা;
প্রতিটি শব্দে ছিলে শুধু তুমিই,
প্রতিটি নিশ্বাসে ছিল তোমারই ব্যাকুলতা।
আজ যদি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলো—
“ভালোবাসি”, শুনবে না মৃত হৃদয়;
যে কান দুটি জীবনভর সেই শব্দ খুঁজেছে,
সেগুলো আজ মাটির নিচে নিশ্চুপ নিদ্রাময়।
ফুল এনে রেখো না আমার শিয়রে,
সে ফুলে আর সুবাস খুঁজে পাবো না;
জীবন থাকতে যে বসন্ত এলো না,
মৃত্যুর পরে সে বসন্ত আর চেনা হবে না।
তোমার চোখের জল যদি সত্যিই সত্য হয়,
তবে কেন ঝরেনি আমার বেঁচে থাকার কালে?
কেন প্রতিটি সন্ধ্যা কেটেছে অপেক্ষায়,
কেন প্রতিটি ভোর জেগেছে শূন্যতার জ্বালে?
সময় বড় নিষ্ঠুর—
সে কাউকে দ্বিতীয় সুযোগ দেয় না;
একবার হারিয়ে গেলে মানুষ ফিরে আসে না,
ফিরে আসে শুধু অনুতাপের দীর্ঘ ছায়া।
যে ভালোবাসা সময়মতো উচ্চারিত হয় না,
সে ভালোবাসা একদিন শোকগাথা হয়ে যায়;
যে হাত জীবনে ধরা হয় না,
সে হাত মৃত্যুর পরে ধরেও কোনো লাভ নেই।
তাই বলি—
অভিমানকে বেশি দিন বাঁচিয়ে রেখো না,
ভালোবাসা লুকিয়ে রেখো না হৃদয়ের অন্ধকারে;
যাকে ভালোবাসো, আজই তাকে বলে দাও,
হয়তো আগামীকাল আর থাকবে না সেই অবকাশ।
মৃত্যুর পরে কান্না সহজ,
কিন্তু জীবিত মানুষকে ভালোবাসা বড় কঠিন;
তবু সেই কঠিন কাজটিই করো,
কারণ জীবনের সবচেয়ে বড় শোক—
যখন ভালোবাসা থাকে, কিন্তু মানুষটি আর থাকে না।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন