• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারি আটক করে থানায় আসার সময় এস আই সহ নিহত ২ আহত ২ জন মোঃ মুক্তাদির হোসেন, বাংলাদেশ কবিতা সংসদের সাহিত্য সম্মেলন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কবিতা: সমাজের আয়না সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে এমপি মিলন, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস তুমুলিয়া ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম কবিতা:মায়ার পৃথিবী, সত্যের স্রষ্টা — একটি আত্মোপলব্ধির কবিতা রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম তারিখ:১৬/১০/২০২৬ স্বী স্ত্রীর রমীমা মাদক ব্যবসা কালীগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যেগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

গল্পঃ তুই শুধু আমার, লেখিকাঃ আফছানা খানম অথৈ। দৈনিক বাংলার কথা।

বাংলার কথা ডেস্ক / ৫৮ বার পঠিত
আপডেটঃ সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

#গল্প
তুই শুধু আমার
আফছানা খানম অথৈ

রাহুল আর হেনার পরিচয় আজকের নয়। একই আঙিনায় বড় হওয়া, একই রাস্তায় হাঁটা, একই বিকেলে ফুলের বাগানে ছুটে বেড়ানো—শৈশব থেকেই যেন দুজনের জীবন একই সুতোয় গাঁথা। বন্ধুত্বের সেই সম্পর্ক কখন যে অদৃশ্য এক মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে গেছে, তা তারা নিজেরাও বুঝতে পারেনি।
রাহুল খন্দকার দেশের অন্যতম শিল্পপতি মাসুদ খন্দকারের একমাত্র ছেলে। মিল-কারখানা, ব্যবসা, বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি—বিত্তের কোনো অভাব নেই তাদের।
অন্যদিকে, হেনার বাবা হারুনুর রশিদ মাসুদ খন্দকারের প্রতিষ্ঠানের একজন সাধারণ কেরানি। আয় সীমিত হলেও সততা, নিষ্ঠা আর আত্মসম্মানে তিনি ছিলেন অটল। বহু বছরের বিশ্বস্ততার পুরস্কার হিসেবে মাসুদ খন্দকার তাদের একটি বাসায় বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন।
হারুনুর রশিদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। বড় মেয়ে হেনা—শান্ত, ভদ্র, মেধাবী এবং রুচিশীল। এসএসসি ও এইচএসসি—দুটিতেই কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তির সুযোগ পেল।
সংবাদটি শুনে যেন আনন্দে ভরে উঠল ছোট্ট সংসারটি।
সাদেকুন্নাহার মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
— “আল্লাহর লাখো শুকরিয়া। আমার মেয়েটার স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে।”
হারুনুর রশিদের চোখেও আনন্দের জল।
— “গরিবের ঘরে জন্ম নিয়েছিস বলে স্বপ্ন থেমে থাকবে না, মা। মানুষ হবি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।”
সেদিন আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আশপাশের প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিষ্টি বিতরণ করা হলো। সৌজন্যবশত এক বাক্স মিষ্টি পাঠানো হলো মাসুদ খন্দকারের বাড়িতেও।
মিষ্টির বাক্স হাতে দেখে মাসুদ খন্দকার ভ্রু কুঁচকে স্ত্রীর দিকে তাকালেন,
“কিসের মিষ্টি?”
রোজা খন্দকার হাসিমুখে বললেন,
— “হেনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হয়েছে। তাই হারুন ভাই পাঠিয়েছেন।”
কথাটা শুনে মাসুদ খন্দকার ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে উঠলেন।
— “দেখেছ ছোটলোকদের কাণ্ড! নিজের সংসারই ঠিকমতো চলে না, আবার মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবে!”
রোজা খন্দকার শান্ত গলায় বললেন,
— “গরিব বলে কি ওদের স্বপ্ন দেখার অধিকার নেই?”
— “তুমি বিষয়টা বুঝছ না, রোজা। অযথা এত টাকা খরচ না করে মেয়েটার বিয়ে দিলেই পারত।”
রোজা এবার দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,
— “একটা কথা মনে রাখবেন। এখন গরিবের ছেলেমেয়েরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, বিসিএস ক্যাডার হয়, দেশের বড় বড় দায়িত্ব পালন করে। মানুষকে টাকার অঙ্কে বিচার করা ঠিক নয়।”
স্ত্রীর কথায় মাসুদ খন্দকার আর কিছু বললেন না। বিরক্ত মুখে অফিসের উদ্দেশে বেরিয়ে গেলেন।
এদিকে নিজের ঘরে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিভিন্ন তথ্য দেখছিল হেনা। হঠাৎ ফোনে একটি বার্তা ভেসে উঠল।
রাহুল: “সুইট বেবি, কোথায় তুই?”
হেনা হেসে উত্তর দিল,
— “বাসায়। কেন?”
— “একটু ফুলের বাগানে আয়। জরুরি কথা আছে।”
— “আচ্ছা, পাঁচ মিনিট অপেক্ষা কর। আসছি।”
মেসেজ পাঠিয়েই দ্রুত বেরিয়ে গেল হেনা।

ফুলের বাগানটি ছিল রাহুল আর হেনার প্রিয় জায়গা। ছোটবেলা থেকে কত বিকেল যে সেখানে কেটেছে, তার হিসাব নেই। কিন্তু আজকের বিকেলটা অন্য রকম।
হেনা বাগানে এসে চারদিকে তাকাল। কোথাও রাহুলের দেখা নেই।সে বিরক্ত হয়ে ফোনে লিখল,
— “কোথায় তুই? আমাকে ডেকে নিজেই উধাও হয়ে গেলি?”
কোনো উত্তর এল না।ফোন করল। ফোনটাও বন্ধ।
হেনার বিরক্তি বাড়তে লাগল।
— “রাহুল, এসব কিন্তু একদম ভালো লাগছে না। আমি চলে যাচ্ছি।”
কথাটা বলেই সে সামনে পা বাড়াল।ঠিক তখনই গোলাপগাছের আড়াল থেকে হাসতে হাসতে বেরিয়ে এল রাহুল। হাতে টকটকে লাল একটি গোলাপ।
হেনা ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “এটাই ছিল তোর জরুরি কাজ? আমাকে নিয়ে মজা করতে খুব ভালো লাগে, তাই না?”
রাহুল কান ধরে বলল,
— “সরি। সত্যি বলছি, তোকে একটু চমকে দিতে চেয়েছিলাম।”
— “তোর এই বদঅভ্যাসটা কোনো দিন যাবে না। এখন বল, কেন ডেকেছিস?”
রাহুল আর দেরি করল না। গোলাপটি হেনার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,
— “হেনা… আমি তোকে ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি। তুই কি আমার হবি?”
মুহূর্তেই চারপাশটা যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
হেনা গোলাপটির দিকে দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে সেটি হাতে নিয়ে নিচু স্বরে বলল,
— “ক্ষমা কর, রাহুল। আমি তোকে ভালোবাসতে পারব না।”
রাহুলের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
— “কেন? আমার কী অপরাধ?”
— “তোর কোনো অপরাধ নেই। কিন্তু সব ভালোবাসা পূর্ণ হয় না।”
— “তার মানে?”
হেনা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— “তুই বড়লোকের ছেলে, আমি একজন সাধারণ কেরানির মেয়ে। তোদের দয়ায় আমরা মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছি। এই আকাশ-পাতাল ব্যবধানের মাঝে ভালোবাসা মানায় না।”
রাহুল মৃদু হেসে বলল,
— “ভালোবাসা কি কখনো ধনী-গরিব দেখে হয়? দুটো মন এক হয়ে গেলেই তো ভালোবাসা জন্ম নেয়।”
হেনা মাথা নাড়ল।
— “এসব সিনেমায় ভালো শোনায়। বাস্তবটা অনেক কঠিন।”
— “সেই কঠিন বাস্তবটাই আমি বদলে দেব।”
— “এত সহজ নয়, রাহুল। আঙ্কেল কোনো দিন আমাকে তাঁর পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেবেন না।”
রাহুল দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
— “আমি বাবাকে ভালো করেই চিনি। কিন্তু আমি এটাও জানি, আমি তোকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারব না।”
হেনা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তার চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু যেন মনের সব কথা বলে দিচ্ছিল।
রাহুল ধীরে ধীরে তার কাছে এগিয়ে এল।
— “আমার চোখের দিকে তাকিয়ে একটা কথার উত্তর দে। তুই কি আমাকে ভালোবাসিস?”
হেনা চোখ সরিয়ে নিল।
— “ভালোবাসার ইচ্ছা থাকলেও, সেই ভালোবাসাকে পাওয়ার অধিকার আমার নেই।”
এই একটি বাক্যই রাহুলের কাছে যথেষ্ট ছিল।
সে বুঝে গেল—হেনার ঠোঁট অস্বীকার করলেও, তার হৃদয় অনেক আগেই রাহুলের হয়ে গেছে।মৃদু স্বরে সে বলল,
— “আজ থেকে আর কোনো ভয় নয়। সুখে-দুঃখে, হাসি-কান্নায় আমি তোর পাশে থাকব। এই কথাটা বিশ্বাস কর।”
হেনার কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
— “রাহুল… আমার খুব ভয় করছে।”
— “ভয়কে জিততে দিলে ভালোবাসা হেরে যায়। আর আমি আমাদের ভালোবাসাকে হারতে দেব না।”
হেনা ধীরে ধীরে লাল গোলাপটি নিজের বুকের কাছে চেপে ধরল।মুখে লাজুক হাসি ফুটে উঠল।
— “দেখা যাক, সময় শেষ পর্যন্ত কার পরীক্ষা নেয়।”
রাহুল হেসে বলল,
— “সময় নয়,ভালোবাসাই জিতবে।”
দুজন পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির পথে ফিরল।
সেদিন থেকে তাদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
ফোনে দীর্ঘ আলাপ, গোপনে দেখা করা, ছোট ছোট অভিমান, আবার মুহূর্তেই মান-অভিমান ভেঙে যাওয়া—ভালোবাসা ধীরে ধীরে আরও গভীর হতে লাগল।

দেখতে দেখতে রাহুলের গ্র্যাজুয়েশন শেষ হলো। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে সে বাবার প্রতিষ্ঠানে যোগ দিল। ব্যবসার প্রতি তার দক্ষতা, বিচক্ষণতা আর আধুনিক চিন্তাভাবনা অল্প দিনেই সবার নজর কাড়ল।
একদিন অফিসের বিভিন্ন ফাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে তার চোখ পড়ল হারুনুর রশিদের কর্মজীবনের নথিতে।
পঁচিশ বছরের নিরলস পরিশ্রম, সততা আর নিষ্ঠা—কিন্তু পদোন্নতি নেই।রাহুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— “এত বছর ধরে একজন মানুষ প্রতিষ্ঠানকে নিজের পরিবারের মতো আগলে রেখেছেন, অথচ তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকুও পাননি!”
সেদিনই সে সিদ্ধান্ত নিল।হারুনুর রশিদকে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।
খবরটি শুনে হারুনুর রশিদের চোখ ভিজে উঠল।
–“ছোট সাহেব, আমি তো শুধু আমার দায়িত্বটাই পালন করেছি। এত বড় সম্মানের যোগ্য আমি নই।”
রাহুল হেসে বলল,
— “এটা কোনো দয়া নয়, চাচা। এটা আপনার প্রাপ্য।”
কিন্তু বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারলেন না মাসুদ খন্দকার।
অফিসে ঢুকেই তিনি কঠোর কণ্ঠে বললেন,
— “রাহুল, এত বড় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসেবে একজন আইএ পাশ লোককে বসানো কি ঠিক হয়েছে?”
রাহুল শান্তভাবেই উত্তর দিল,
— “বাবা, শিক্ষাগত যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অভিজ্ঞতা আর সততা তার চেয়েও বড়। রশিদ চাচার মতো বিশ্বস্ত মানুষ খুব কমই আছে।”
মাসুদ খন্দকার ঠান্ডা গলায় বললেন,
— “ব্যবসা আবেগ দিয়ে চলে না।”
— “ঠিক বলেছেন। তাই যোগ্য মানুষকেই যোগ্য সম্মান দিয়েছি।”
ছেলের দৃঢ়তা দেখে তিনি আর কিছু বললেন না। কিন্তু তাঁর মুখের অস্বস্তি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।সেদিন সন্ধ্যায় হেনার ফোন এল।
— “কি করছ, মিস্টার বিজনেসম্যান?”
রাহুল হেসে বলল,
— “তোর কথাই ভাবছি।”
— “সত্যি?”
— “মিথ্যা বললে শাস্তি দিবি?”
হেনা মুচকি হেসে বলল,
— “অবশ্যই।”
— “তাহলে সত্যিটাই বলি। ভাবছিলাম, কবে তোকে আমার জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষ করে ঘরে তুলব।”
হেনা লজ্জায় বলল,
— “বিয়ের আগে এসব বলতে নেই।”
— “বিয়ে তো হবেই।”
— “এতটা নিশ্চিত কীভাবে?”
— “কারণ আমি ভালোবাসায় বিশ্বাস করি।”
হেনা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— “যদি আন্টি-আঙ্কেল রাজি না হন?”
রাহুলের কণ্ঠে অদ্ভুত দৃঢ়তা।
— “যে কোনো বাধার সঙ্গে লড়ব। কিন্তু তোকে হারাব না।”
হেনার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।সে বিষয় বদলে বলল,
— “শুনো, শুক্রবার তোমার জন্মদিন।”
— “হ্যাঁ। কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় উপহারটা যেন তুই হোস।”
— “দেখা যাবে। এখন রাখি।”
শুক্রবার,খন্দকার বাড়ি আলোয়, ফুলে আর অতিথিদের কোলাহলে মুখর।
মাসুদ খন্দকার শহরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, আত্মীয়স্বজন—সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।কিন্তু ইচ্ছে করেই ডাকেননি হারুনুর রশিদের পরিবারকে।তবু ভালোবাসার টানে একটি ছোট্ট উপহার হাতে নিয়ে চলে এল হেনা।দরজায় দাঁড়াতেই রাহুলের চোখ জ্বলে উঠল আনন্দে।
— “তুই এসেছিস!”
হেনা হাসিমুখে একটি সুন্দর প্যাকেট বাড়িয়ে দিল।
— “শুভ জন্মদিন। এটা আমার পক্ষ থেকে ছোট্ট উপহার।”
রাহুল প্যাকেটটি হাতে নিয়ে বলল,
— “এটাই আজকের সবচেয়ে দামি উপহার। চল, ভেতরে চল।”
রোজা খন্দকারও হেনাকে দেখে খুশি হলেন।
— “কেমন আছো মা? ভাইজান আর ভাবি আসেননি?”
হেনা মৃদু হেসে বলল,
— “বাবার শরীরটা একটু খারাপ, আন্টি। তাই আসতে পারেননি।”
ঠিক তখনই সেখানে এসে উপস্থিত হলেন মাসুদ খন্দকার।হেনাকে দেখেই তাঁর মুখ কঠিন হয়ে গেল।
সবার সামনে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বললেন,
— “তুমি এখানে কী করছ?”
হেনা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
— “তোমাকে কে দাওয়াত দিয়েছে? নিজের অবস্থান ভুলে যেও না। সব জায়গায় সবার প্রবেশাধিকার থাকে না।”
চারদিকে মুহূর্তেই নীরবতা নেমে এল।অতিথিরা বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইলেন।হেনার চোখ ভিজে উঠল। কিন্তু সে একটি কথাও বলল না।নিঃশব্দে উপহারহীন দুই হাত বুকে জড়িয়ে দরজার দিকে হাঁটতে লাগল।রোজা খন্দকার ব্যথিত কণ্ঠে বললেন,
— “আপনি এভাবে একটা মেয়েকে সবার সামনে অপমান করলেন?”
মাসুদ খন্দকার নির্বিকার।
— “নিজের সীমা না জানলে মানুষকে সীমা দেখিয়ে দিতে হয়।”
হেনা তখন বাড়ির গেট পেরিয়ে অনেক দূরে চলে গেছে।
অন্যদিকে, কেক কাটার সময় চারদিকে সবাই হাততালি দিলেও রাহুলের চোখ শুধু একজনকেই খুঁজছিল।কিন্তু সে আর কোথাও নেই…
সেদিন জন্মদিনের হাজারো আলোও রাহুলের কাছে নিভে গিয়েছিল।

জন্মদিনের ঘটনার পর থেকেই হেনা নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করল।
ফোনে আগের মতো আর কথা বলে না, মেসেজের উত্তরও দেয় দেরিতে। রাহুল যতই কারণ জানতে চায়, হেনা ততই এড়িয়ে যায়।
পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে রাহুল হেনার পথ আগলে দাঁড়াল।
— “চল, একটু পার্কে বসি। অনেক কথা আছে।”
অনিচ্ছা সত্ত্বেও হেনা রাজি হলো।
দুজন পাশাপাশি বসে আছে। অথচ আজ যেন তাদের মাঝখানে অদৃশ্য এক দেয়াল।রাহুল নীরবতা ভাঙল।
— “সেদিন আমাকে কিছু না বলেই চলে এলি কেন?”
হেনা চোখ নামিয়ে বলল,
— “হঠাৎ শরীরটা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল।”
রাহুল মৃদু হেসে মাথা নাড়ল।
— “আমাকে মিথ্যে বলতে হবে না। তোর চোখ বলে দিচ্ছে, তুই কষ্ট লুকাচ্ছিস।”
হেনা চুপ।
— “সত্যি করে বল, বাবা কি তোকে কিছু বলেছেন?”
হেনা কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল,
— “রাহুল, আমরা ভালো বন্ধু ছিলাম, বন্ধু থাকি। এর বেশি কিছু ভাবিস না।”
— “এটা কি তোর মনের কথা?”
— “হ্যাঁ।”
রাহুল তার চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,
— “মিথ্যে কথা বলার সময় তুই কখনো আমার চোখের দিকে তাকাতে পারিস না। আজও পারছিস না।”
হেনার চোখ ভিজে উঠল।
— “বাস্তবটা মেনে নে। তুই আর আমি কখনো এক হতে পারব না।”
রাহুল দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
— “পৃথিবীর সবাই যদি আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তবুও আমি তোকে ছেড়ে যাব না। মনে রাখিস, তুই শুধু আমার।”
হেনা কোনো উত্তর দিল না।তার বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠলেও ঠোঁট নীরব রইল।সেদিন বিকেলে অফিস থেকে ফেরার পথে মাসুদ খন্দকারের গাড়ি পার্কের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।
হঠাৎ তাঁর চোখ পড়ল রাহুল আর হেনার দিকে।
দুজন পাশাপাশি হাঁটছে। বিদায় নেওয়ার আগে রাহুল আলতো করে হেনার হাত ধরল।
দৃশ্যটা দেখেই মাসুদ খন্দকারের মুখ কঠিন হয়ে গেল।
তিনি দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,
— “এত দূর এগিয়ে গেছে ব্যাপারটা! না, এই সম্পর্ক আমি কোনো দিন মেনে নেব না। এমনভাবে শেষ করব, কেউ বুঝতেও পারবে না।”
সেদিন রাতেই অফিসে ডেকে পাঠানো হলো হারুনুর রশিদকে।তিনি যথারীতি সম্মান নিয়ে মালিকের সামনে দাঁড়ালেন।
— “সালাম, সাহেব। আমাকে ডেকেছেন?”
মাসুদ খন্দকার ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন,
— “রশিদ, অনেক বিশ্বাস করেছিলাম তোমাকে। কিন্তু সেই বিশ্বাসের মূল্য এভাবেই দিলে?”
হারুনুর রশিদ বিস্মিত।
— “আমি কি কোনো ভুল করেছি, সাহেব?”
— “ভুল নয়, অপরাধ করেছ। সম্পদের লোভে নিজের মেয়েকে আমার ছেলের পেছনে লাগিয়ে দিয়েছ!”
কথাগুলো বজ্রাঘাতের মতো আঘাত করল হারুনুর রশিদের বুকে।কাঁপা গলায় তিনি বললেন,
— “সাহেব, আল্লাহর কসম, আমি কিছুই জানতাম না। যদি ওরা ভুল করে থাকে, আজই মেয়েকে বুঝিয়ে দেব। কিন্তু আমাকে এভাবে অপমান করবেন না।”
মাসুদ খন্দকার টেবিলে হাত চাপড়ে উঠলেন।
— “তোমার জন্য একটাই শাস্তি। আজ রাতের মধ্যেই পরিবার নিয়ে এই শহর ছেড়ে চলে যাবে। আর কোনো দিন ফিরবে না।”
হারুনুর রশিদের বুকটা কেঁপে উঠল।
— “সাহেব… এত বড় শাস্তি?”
— “আর একটা কথা মনে রেখো। রাহুল যেন কিছুই জানতে না পারে। সব ফোন নম্বর বদলে ফেলবে। যোগাযোগের সব পথ বন্ধ করে দেবে। নইলে চুরির মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠাতে আমার এক মুহূর্তও লাগবে না।”
হারুনুর রশিদের মাথা নিচু হয়ে গেল।জীবনে প্রথমবার তিনি অনুভব করলেন—দারিদ্র্যের চেয়েও ভয়ংকর হলো ক্ষমতাবানের অন্যায়।রাত গভীর।ছোট্ট বাড়িটায় কান্নার শব্দ ছাড়া আর কিছু নেই।সাদেকুন্নাহার বারবার জিজ্ঞেস করছেন,
— “এত রাতে কোথায় যাব?”
হারুনুর রশিদ শুধু বললেন,
— “সম্মান নিয়ে বাঁচতে হলে আজই চলে যেতে হবে।”
হেনা বাবার মুখের দিকে তাকিয়েই সব বুঝে গেল।
তার চোখে জল এল, কিন্তু সে কোনো প্রশ্ন করল না।
নীরবে নিজের বইগুলো গুছিয়ে নিল।ভোর হওয়ার আগেই একটি ভাড়া করা ট্রাকে উঠে বসল পুরো পরিবার।ধীরে ধীরে শহরটা পেছনে মিলিয়ে গেল।
আর সেই শহরেই রয়ে গেল হেনার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি…,।

পরদিন সকালেই অফিসে এসে রাহুল অবাক হয়ে গেল।হারুনুর রশিদের কক্ষ খালি। টেবিল-চেয়ার সব গুছানো। যেন কোনো দিন সেখানে কেউ কাজই করেনি।রাহুল একজন কর্মচারীকে জিজ্ঞেস করল,
— “রশিদ চাচা কোথায়?”
লোকটি মাথা নেড়ে বলল,
— “জানি না, স্যার। শুনেছি জরুরি কাজে ছুটি নিয়েছেন।”
রাহুলের বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
সে দ্রুত ফোন বের করে হারুনুর রশিদের নম্বরে কল দিল।
‘এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়।’
হেনার নম্বরে কল করল।একই উত্তর।ফেসবুকে ঢুকে দেখল—হেনার আইডিও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।তার মনে অজানা এক আশঙ্কা বাসা বাঁধল।সেদিনই সে ছুটে গেল হেনাদের বাসায়।
গিয়ে দেখল দরজায় বড় একটি তালা ঝুলছে।
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পারল, গভীর রাতে তারা বাসা ছেড়ে চলে গেছে।কিন্তু কোথায় গেছে, কেউ জানে না।সেদিন থেকে রাহুল যেন বদলে গেল।
অফিসে মন বসে না, ব্যবসার হিসাব এলোমেলো হয়ে যায়। রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটে।
মাসুদ খন্দকার সবই দেখছিলেন। কিন্তু এমন ভাব করলেন, যেন কিছুই জানেন না।এক সপ্তাহ পর তিনি ছেলেকে ডেকে বললেন,
— “বাবা, মনে হয় রশিদ আর ফিরবে না। নতুন একজন ম্যানেজার নিয়োগ দাও।”
রাহুল অবাক হয়ে বলল,
— “আরও কিছুদিন অপেক্ষা করলে হয় না?”
— “অপেক্ষা করে লাভ নেই। যদি কখনো ফিরে আসে, অন্য কোথাও চাকরি দিয়ে দেব।”
রাহুল আর কথা বাড়াল না।কিন্তু তার মন কিছুতেই বাবার কথায় সায় দিল না।
এদিকে গ্রামের পরিবেশে ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছিল হেনা।গ্রামের উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার মেধার কথা শুনে নিজেই একদিন তাদের বাড়িতে এলেন।সবকথা শুনে বললেন,
— “মা, তোমার পড়াশোনা যেন নষ্ট না হয়। আমাদের স্কুলে সহকারী শিক্ষিকার একটি পদ খালি আছে।চাইলে যোগ দিতে পারো।”
হেনা বাবার দিকে তাকাল।হারুনুর রশিদ মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,
— “সৎ পথে যে কাজ আসে, তা কখনো ফিরিয়ে দিতে নেই।”
হেনা সম্মতি জানাল।অল্প দিনের মধ্যেই সে স্কুলের প্রিয় শিক্ষিকায় পরিণত হলো।কিন্তু বুকের গভীরে রয়ে গেল এক অসমাপ্ত ভালোবাসার দীর্ঘশ্বাস।
এদিকে একদিন বিকেলে অফিস শেষে গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিল রাহুল।ঠিক তখনই প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধ ড্রাইভার কাদের আলী ইতস্তত করে বললেন,
— “ছোট সাহেব… একটা কথা কইতাম?”
— “বলুন চাচা।”
চারপাশে একবার তাকিয়ে তিনি নিচু গলায় বললেন,
— “রশিদ সাহেব তার নিজের ইচ্ছায় শহর ছাড়েন নাই।”
রাহুল চমকে উঠল।
— “মানে?”
— “বড় সাহেব সব জাইনা গেছিলেন। আপনার আর হেনা আপার সম্পর্কের কথা। তারপর রশিদ সাহেবরে ডাইকা… শহর ছাইড়া যাইতে বাধ্য করছেন। না গেলে মিথ্যা চুরির মামলা দিবেন,বলে ভয় দেখিয়েছেন।”
রাহুল যেন পাথর হয়ে গেল।কয়েক মুহূর্ত সে কোনো কথাই বলতে পারল না।তারপর কাঁপা কণ্ঠে বলল,
— “আপনি যা বলছেন, সব সত্যি?”
বৃদ্ধ ড্রাইভার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— “মিথ্যা কইয়া লাভ কী, বাবা? আমি নিজের চোখে সব দেখছি।”
এক নিমিষেই সব রহস্যের জট খুলে গেল।হেনার হঠাৎ বদলে যাওয়া, ফোন বন্ধ, ফেসবুক বন্ধ, রাতারাতি উধাও হয়ে যাওয়া—সবকিছুর উত্তর সে পেয়ে গেল।
রাহুলের চোখ দুটো লাল হয়ে উঠল।সে মনে মনে বলল,
— “হেনা, আমি তোকে কথা দিয়েছিলাম। আমি আসছি। এবার আর কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।”
সেদিন রাতেই নিজের কক্ষে বসে বাবার উদ্দেশে একটি দীর্ঘ চিঠি লিখল রাহুল।
চিঠির শেষ লাইনে সে লিখল—
“বাবা, ধন-সম্পদ মানুষের জীবনকে আরাম দিতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা কেড়ে নেওয়ার অধিকার কাউকে দেয় না। আমি হেনাকে ভালোবাসি। তাকে নিয়েই আমার ভবিষ্যৎ। আমাকে খুঁজে লাভ হবে না। আমি আমার ভালোবাসার কাছেই চলে যাচ্ছি।”
চিঠিটি নিজের বিশ্বস্ত পিএসের হাতে তুলে দিয়ে বলল,
— “আমি চলে যাওয়ার সাত দিন পর এই চিঠিটা বাবার হাতে দেবে। তার আগে নয়।”
পিএস সম্মানের সঙ্গে মাথা নত করল।
–“জি, স্যার।”
সেদিন রাতেই একটি ছোট ব্যাগে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে রাহুল অজানা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিল।
তার গন্তব্য একটাই—হেনা।

সারারাতের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভোরের আলো ফুটতেই রাহুল পৌঁছে গেল হেনাদের গ্রামের বাড়িতে।
উঠোনে দাঁড়িয়ে ডাক দিল,
— “হেনা!”
পরিচিত কণ্ঠ শুনে হেনা ঘর থেকে বেরিয়ে এল। সামনে রাহুলকে দেখে সে বিস্ময়ে স্থির হয়ে গেল।
— “রাহুল! তুমি এখানে?”
— “হ্যাঁ। তোকে নিতে এসেছি। এবার আর কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।”
হেনার চোখ ভিজে উঠল।
— “ফিরে যাও। তোমার বাবা আমাদের শহরছাড়া করেছেন। তোমার জন্য আমি আর কোনো বিপদ চাই না।”
এ সময় হারুনুর রশিদ এগিয়ে এলেন।
— “বাবা রাহুল, তুমি ভালো ছেলে। কিন্তু আমাদের জন্য তোমার তোমার বাবা-মাকে ছেড়ে দিও না।”
রাহুল সম্মানের সঙ্গে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
— “চাচা, আমি বাবা-মাকে ত্যাগ করতে আসিনি। আমি এসেছি আমার জীবনের সবচেয়ে সত্য সিদ্ধান্ত নিতে। হেনাকে আমি ভালোবাসি। তাকে স্ত্রী হিসেবে সম্মান দিতে চাই। যদি আপনারা সম্মতি দেন, আজই আমাদের বিয়ে দিন।”
হারুনুর রশিদ দীর্ঘক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর হেনার দিকে তাকালেন।
— “মা, তোর কী মত?”
হেনার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
— “বাবা, রাহুলকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ।”
হারুনুর রশিদ আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললেন,
— “হে আল্লাহ, ওদের সুখী রেখো।”
কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রামের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বজনদের উপস্থিতিতে সাদামাটাভাবে রাহুল ও হেনার বিয়ে সম্পন্ন হলো।
না ছিল আলোকসজ্জা, না ছিল বিলাসী আয়োজন।
তবু সেই বিয়েতে ছিল বিশ্বাস, আত্মমর্যাদা আর সত্যিকারের ভালোবাসার জয়।
সাতদিন পর মাসুদ খন্দকারের হাতে পৌঁছাল রাহুলের লেখা চিঠি।
চিঠির প্রতিটি লাইন পড়তে পড়তে তাঁর বুকটা ভারী হয়ে উঠল।
প্রথমবারের মতো তিনি বুঝলেন—সম্পদ দিয়ে মানুষ কেনা যায়, কিন্তু ভালোবাসা নয়।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি নিঃশব্দে বললেন,
— “আমি ছেলেকে হারিয়েছি আমার অহংকারের জন্য।”
রোজা খন্দকারের চোখও অশ্রুসজল হয়ে উঠল।
এদিকে গ্রামের মেঠোপথ ধরে পাশাপাশি হাঁটছে রাহুল আর হেনা।ধানক্ষেতের ওপর দিয়ে শীতল বাতাস বয়ে যাচ্ছে।হেনা মৃদু হেসে বলল,
— “এত বড় বাড়ি, এত সম্পদ, এত আরাম ছেড়ে আমার সঙ্গে এই সাধারণ জীবন… কখনো আফসোস হবে না?”
রাহুল থেমে গেল।আস্তে করে হেনার দুই হাত নিজের হাতে তুলে নিয়ে গভীর ভালোবাসায় বলল,
— “ধন-সম্পদ মানুষকে বড় করে না, মানুষকে বড় করে তার ভালোবাসা। আমি সব হারালে আবার ফিরে পেতে পারি। কিন্তু তোকে হারালে আর কোনো দিন ফিরে পাব না।”
হেনার চোখ ভিজে উঠল।
— “আমার জন্য এত কিছু ছেড়ে দিলে?”
রাহুল মৃদু হেসে বলল,
— “ছাড়িনি, জিতেছি। কারণ আমি আমার পৃথিবীকে পেয়েছি।”
হেনা নরম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
— “তোমার পৃথিবীটা কে?”
রাহুল তার কপালে আলতো করে হাত রেখে বলল,
— “তুই… শুধু তুই। এই জীবনে, পরের জীবনেও যদি আল্লাহ সুযোগ দেন, আমি শুধু তোকে চাই। কারণ…”
হেনা লাজুক হাসিতে তার কথা শেষ করে দিল।
— “কারণ তুই শুধু আমার…”
রাহুল হেসে মাথা নাড়ল।
— “না হেনা… তুই শুধু আমার, আর আমি শুধু তোর। আমাদের ভালোবাসাকে আলাদা করার ক্ষমতা কারও নেই।”
দুজনের হাত শক্ত করে এক হয়ে রইল।সূর্য তখন নতুন আলোর বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছিল।অহংকার হার মানল।শ্রেণিবৈষম্য হার মানল।জয় হলো শুধু সত্যিকারের ভালোবাসার।
— সমাপ্ত —


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন