গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন নিরাপত্তা সীমারেখা বা ‘ইয়েলো লাইন’ আরও সম্প্রসারণের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে নতুন করে বহু ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গাজা সিটির জেইতুন, তুফাহ ও শুজাইয়া ছাড়াও দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস এবং উত্তর রাফাহর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নতুন নিরাপত্তা সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আগে যেসব এলাকায় মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল, সেখান থেকেও অনেককে সরে যেতে হচ্ছে।
বাসিন্দারা বলছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে তাদের। প্রতিবার নতুন নির্দেশনার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে বের হতে হচ্ছে। এতে শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোকে নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা (OCHA) জানিয়েছে, জেইতুন এলাকায় সাম্প্রতিক উচ্ছেদের ঘটনায় অন্তত ৩০টি পরিবার তাদের অস্থায়ী আশ্রয় হারিয়েছে। সংস্থাটি গাজায় চলমান মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের কারণে গাজার অধিকাংশ মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন