সরল বিশ্বাসের দংশনে আত্মগ্লানির বৈঠা পানি পায় না”
(দ্বিতীয় পর্ব)
🖋️এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ
শাহীন বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা ও আইটিপি পরীক্ষা শেষ করে ঢাকা থেকে বাড়ীতে ফিরে আসলে তার মা তাকে অনেক কথা খুলে বলেন।
আইন শিক্ষার্থী রুম্মানের সাথে এক পর্যায়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক সৃষ্টি হতে থাকে শাহীনের।
শাহীন একজন বিম্ন মধ্যেবিত্ত ঘরের ছেলে বাবা নেই,মা ও ভাই-বোন আছে। নিজেকে উপার্জন করে সংসার চালাতে হয়। শাহীন খুবই মিতব্যয়ী ও আত্মকেন্দ্রীক একজন সাধারন মানুষ।
প্রতিবাদ তার রক্তে মিশে থাকা একটি অনন্য বদ গুন।অভিমান করা তার চিরাচরিত স্বভাব!
জনৈক আইন শিক্ষার্থী রুম্মান অনেক গুলো ছবি পাঠিয়েছেন শাহীনকে কবিতা লেখার উপজীব্য হিসেবে। এছাড়াও আমন্ত্রণের একটি শর্ট ভিভিও পাঠিয়ে শাহীনকে আমন্ত্রণ করেন।
যথারীতি সৌজন্যতা পরিমন্ডলে ভাবমূর্তি ইতিবাচক রেখে কথা বার্তা চলতে থাকে। আইন শিক্ষার্থী রুম্মানের পুর্বপুরুষেরা ছিলেন জমিদার। সেই প্রেক্ষিতে জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যাদি বিষয় সম্পর্কেও শাহীনকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু শাহীন মন থেকে বরাবরই নির্লোভী ও নির্মোহ একজন মানুষ।
স্বভাবজাত কারনে লিখতে ভালোবাসেন শাহীন। পনেরই জুলাই ২০২৫ কথা বলতে গিয়ে রুম্মানের প্রতি ইয়ার্কির ছলে শাহীন বলেন, আপনার সাথে আর হয়তো কথা বলা হবেনা?
আপনারা ধনী মানুষ আর আমরা গরীব!
তাই অসমতায় বন্ধুত্ব হলেও তা টিকতে পারেনা। রুম্মানের প্রেরিত ভিডিওর উপর আবেগ তাড়িত হয়ে আবহ সৃষ্টি করে একটি কবিতা লিখে পোস্ট করলেন শাহীন।
ইয়ার্কির ছলে বলা কথা গুলো ও আবেগ তাড়িত কবিতা লিখে পোস্ট করাই কাল হলে শাহীনের জীবনে!
যদিও সংশ্লিষ্ট শর্ট ভিডিও বিষয়ে শাহীন ও রুম্মান ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ এ বিষয়ে জানতেন না বা জানার কথা নয়!
তবুও শাহীনকে থ্রেট করা হয়, উত্তেজিত ভাষায় হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়, মামলা মোকদ্দমার ভয়-ভীতিও প্রদর্শন করা হয়। শাহীন ক্ষমা চেয়েও পরিত্রাণ পায়না! বারংবার অসহায়ত্ব ও সরল বিশ্বাসের ফোড়ন কেটেও রুম্মানের বড় আপাকে শান্ত করতে পারেনা। যে বড় আপা কয়েক দিন আগেও শাহীনের ব্যবহার ও আলাপচারিতায় মুগ্ধ ছিলেন অথচ সময়ের ব্যবধানে তিনি অবিশ্বাসের তীর মেরে শাহীনকে রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত করতেও দ্বিধা করেননি।
শাহীন রুম্মানদের ব্যবহারে কোন রুপ কষ্ট পায়নি।সে তাদের জন্য দোওয়া করে মঙ্গল কামনায় রোজ পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ পড়ে ও তাহাজ্জুদ আদায় করে।
হঠাৎই শাহীনের মা বলছেন শাহীনকে, বাবা তোমার ঐ বান্ধবীর মা খুবই ভালো মানুষ, হৃদয়বতী মানুষ, তুমি তিনির সাথে মাঝেমধ্যে কথা বার্তা বলবে।
শাহীন ভাবে কিভাবে জনৈক আইন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোন মুখে কথা বলবে?
✒️🎤এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ
কবি-কলামিস্ট, সাংবাদিক-গীতিকার,
পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী,
চলনবিল, পাবনা।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন