পরকীয়া: ক্ষণিকের মোহ নাকি আজীবনের অনুতাপ?
লেখক: চাষী এসকে খান | দৈনিক বাংলার কথা
মানুষের জীবনে ভালোবাসা একটি গভীর অনুভূতির নাম। ভালোবাসা শুধু দুটি মানুষের একসঙ্গে থাকা নয়; এটি বিশ্বাস, সম্মান, দায়িত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি সম্পর্ক। কিন্তু যখন সেই সম্পর্কের ভেতরে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি প্রবেশ করে, তখন জন্ম নেয় পরকীয়া। অনেক সময় এটি শুরু হয় নিছক বন্ধুত্ব দিয়ে, কখনো সহানুভূতি দিয়ে, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সাধারণ কথোপকথন থেকে। কিন্তু সেই সাময়িক আকর্ষণ অল্প সময়ের মধ্যেই একটি পরিবার, একটি সম্পর্ক এবং অনেক মানুষের মানসিক শান্তি ধ্বংস করে দিতে পারে।
পরকীয়া নিয়ে সমাজে নানা মতামত থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—এটি কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি নতুন সংকট, অবিশ্বাস এবং অনুশোচনার জন্ম দেয়। যে সম্পর্ক একসময় ভালোবাসা দিয়ে শুরু হয়েছিল, সেখানে যদি কথোপকথন, বোঝাপড়া এবং সম্মান হারিয়ে যায়, তবে দূরত্ব তৈরি হয়। সেই দূরত্বকে কমানোর পরিবর্তে যদি কেউ অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা পরকীয়ার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ কিংবা অনলাইন যোগাযোগ অনেক সময় এমন সম্পর্কের সূচনা করে, যা বাস্তব জীবনের পরিবারকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। একটি ছোট্ট গোপন বার্তা, একটি লুকানো ফোনকল কিংবা একটি মিথ্যা কথা ধীরে ধীরে বিশ্বাসের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দেয়।
একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো পারস্পরিক আস্থা। অর্থ, বাড়ি বা গাড়ি হারালে আবার অর্জন করা যায়, কিন্তু একবার বিশ্বাস ভেঙে গেলে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। পরকীয়ার কারণে শুধু স্বামী-স্ত্রী নন, সন্তানেরাও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক শিশু বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, অশান্তি বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। তাদের পড়াশোনা, মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। মতের অমিল, ব্যস্ততা, আর্থিক চাপ কিংবা ভুল বোঝাবুঝি যেকোনো পরিবারেই আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সমস্যা থেকে পালিয়ে না গিয়ে
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন