যে সত্য মেহরীন জানে
“এই প্রশ্নটার উত্তর মেহরীনই জানে।”
কথাটা শুনে মেহরীনের পা যেন মাটিতে আটকে গেল।
সে ধীরে আরিয়ানের দিকে তাকাল।
—আমি জানি?
আরিয়ান কিছু বলল না।
M-2-এর মুখেও অদ্ভুত একটা আতঙ্ক।
মেহরীন বুঝতে পারল—
তিনজনের মধ্যে শুধু একজনই এমন কিছু জানে, যা বাকিরা বলতে চাইছে না।
আর সেই মানুষটা—
সে নিজেই।
মেহরীন দরজার দিকে তাকিয়ে বলল—
—তুমি যদি সত্যিই আরিয়ান হও, তাহলে আমাকে একটা কথা বলো।
বাইরে থেকে উত্তর এল—
—জিজ্ঞেস করো।
—পাঁচ বছর আগে হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষে আমি তোমাকে কী বলেছিলাম?
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর বাইরে থেকে কণ্ঠটা বলল—
—তুমি বলেছিলে, “আমাকে ভুলে যেও না।”
মেহরীনের বুক কেঁপে উঠল।
কথাটা সত্যি।
কিন্তু আরিয়ান হঠাৎ বলল—
—ওটা সবাই জানে।
মেহরীন তার দিকে তাকাল।
—তুমি কী বলতে চাও?
—আমি বলতে চাইছি, আসল কথাটা শুধু তুমি আর সে জানত।
দরজার ওপাশের কণ্ঠ এবার নরম হয়ে গেল।
—মেহরীন, দরজা খুলো।
মেহরীন এক পা এগিয়ে গেল।
তারপর থেমে গেল।
—না।
বাইরের মানুষটি চুপ।
মেহরীন বলল—
—আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দাও।
—দাও।
—আমাদের প্রথম দেখা কোথায় হয়েছিল?
দরজার ওপাশে দীর্ঘ নীরবতা।
মেহরীনের চোখে সন্দেহ স্পষ্ট হয়ে উঠল।
আরিয়ানও তাকিয়ে আছে দরজার দিকে।
অবশেষে বাইরে থেকে উত্তর এল—
—হাসপাতালে।
মেহরীন সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে গেল।
—মিথ্যা।
আরিয়ান তাকাল।
—কীভাবে বুঝলে?
মেহরীন কাঁপা গলায় বলল—
—কারণ আমি আরিয়ানকে প্রথম দেখেছিলাম হাসপাতালের আগে।
তার মাথায় হঠাৎ একটা ছবি ভেসে উঠল।
বৃষ্টিভেজা রাস্তা।
একটা নীল ছাতা।
একজন ছেলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে।
আর সে নিজে হাসতে হাসতে বলছে—
“আপনি কি সবসময় এত চুপচাপ থাকেন?”
ছেলেটা উত্তর দিচ্ছে—
“শুধু অপরিচিত মানুষের সামনে।”
মেহরীন চোখ বন্ধ করল।
স্মৃতিটা আবার মিলিয়ে গেল।
সে মাথা চেপে ধরল।
—আমি মনে করতে পারছি…
মায়া ধীরে এগিয়ে এল।
—কী?
—আমাদের প্রথম দেখা হাসপাতালের আগে।
আরিয়ান ফিসফিস করে বলল—
—তাহলে তোমার স্মৃতি পুরোপুরি মুছে যায়নি।
ঠিক তখন দরজার ওপাশ থেকে একটা অদ্ভুত হাসি শোনা গেল।
—অবশেষে।
মেহরীন স্থির হয়ে গেল।
—কে তুমি?
বাইরের কণ্ঠ বলল—
—আমি সেই মানুষ, যে তোমার স্মৃতি মুছে যেতে দেখেছিল।
—M-01?
—না।
মেহরীনের চোখ বিস্ফারিত।
—তাহলে?
কণ্ঠটা ধীরে বলল—
—M-01-এরও আগে যে মানুষটা ছিল।
M-2 হঠাৎ পিছিয়ে গেল।
—অসম্ভব…
মেহরীন তার দিকে তাকাল।
—তুমি তাকে চেনো?
M-2 উত্তর দিল না।
বাইরে থেকে আবার কণ্ঠ এল—
—মেহরীন, তুমি আমাকে চিনবে না। কারণ তুমি নিজেই আমাকে তোমার স্মৃতি থেকে মুছে দিয়েছিলে।
মেহরীন স্তব্ধ।
তারপর হঠাৎ টেবিলের ওপর রাখা ০৩/M টোকেনটা নিজে থেকেই জ্বলে উঠল।
এর ওপর নতুন একটি সংখ্যা ফুটে উঠল—
M-00
আর ঠিক সেই মুহূর্তে—
ঘরের সব আলো নিভে গেল।
অন্ধকারের মধ্যে মেহরীন শুধু একটি ফিসফিস শব্দ শুনতে পেল—
“এবার তোমার নিজের চিঠিটা পড়ো।”
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন