দরজার ওপাশে
দরজার ওপাশে ছায়াটা একদম স্থির।
কেউ নড়ছে না।
মেহরীনের বুকের ভেতর শুধু একটা কথাই ঘুরছে—
M-01 ফিরে এসেছে।
আরিয়ান ধীরে ধীরে মেহরীনের সামনে এসে দাঁড়াল।
—পিছিয়ে যাও।
মেহরীন মাথা নাড়ল।
—না। এবার আমি পালাব না।
M-2 দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
তার হাত দরজার হাতলে পৌঁছাতেই বাইরে থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এল—
—M-2… দরজা খুলো না।
M-2-এর হাত থেমে গেল।
মেহরীন চমকে উঠল।
—ও তোমার নাম জানে!
M-2 ধীরে পিছিয়ে এল।
আরিয়ান ফিসফিস করে বলল—
—ও শুধু আমার নাম জানে না। ও আমাদের সবার নাম জানে।
হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে একটা খাম ভেতরে ঢুকে এল।
খামের ওপর লেখা—
“মেহরীনের জন্য।”
মেহরীন খামটা তুলে নিল।
হাতের লেখা দেখে তার বুক কেঁপে উঠল।
আবার সেই একই হাতের লেখা।
তার নিজের।
সে খাম খুলে চিঠিটা বের করল।
প্রথম লাইন—
“মেহরীন, যদি M-01 ফিরে আসে, তাহলে কাউকে বিশ্বাস করবে না।”
মেহরীন থমকে গেল।
—এটা আমি লিখেছি।
আরিয়ান বলল—
—হ্যাঁ।
—কিন্তু আমি তো এটা মনে করতে পারি না!
—সেটাই সমস্যা।
মেহরীন চিঠির পরের লাইন পড়তে লাগল।
“তুমি যাকে আরিয়ান মনে করছ, সে তোমার পরিচিত আরিয়ান নয়।”
মেহরীন ধীরে মাথা তুলল।
আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল—
—তুমি তাহলে কে?
আরিয়ান এবার আর চুপ করল না।
—আমি আরিয়ান নই।
ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
মেহরীনের চোখ বিস্ফারিত।
—তাহলে এতদিন…
—আমি তোমাকে মিথ্যা বলেছি।
—কেন?
—কারণ আসল আরিয়ানকে তুমি নিজের হাতে হারিয়ে ফেলেছিলে।
মেহরীন পিছিয়ে গেল।
—আমি?
—হ্যাঁ।
—আমি কী করেছিলাম?
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—
—তুমি তাকে বাঁচাতে গিয়ে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে, যার ফল তুমি আজও জানো না।
মেহরীন কাঁপা গলায় বলল—
—আর M-01?
আরিয়ান বলল—
—M-01 সেই সিদ্ধান্তের সাক্ষী।
ঠিক তখন দরজায় আবার শব্দ হলো।
ঠক।
একবার।
ঠক।
দুইবার।
ঠক।
তিনবার।
মেহরীনের মাথায় হঠাৎ একটা স্মৃতি ফিরে এল।
একই শব্দ।
একই দরজা।
পাঁচ বছর আগে।
সে নিজেই দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে কাউকে বলেছিল—
“তুমি ঢুকলে সব শেষ হয়ে যাবে।”
মেহরীন হঠাৎ চিৎকার করে উঠল—
—আমি এই দরজাটা চিনি!
সবাই তার দিকে তাকাল।
—আমি এখানে আগেও এসেছিলাম।
M-2 ধীরে বলল—
—হ্যাঁ।
—কখন?
—পাঁচ বছর আগে।
মেহরীন দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বাইরে থেকে কণ্ঠটা আবার শোনা গেল—
—মেহরীন…
এবার কণ্ঠটা একদম পরিচিত।
এতটাই পরিচিত যে মেহরীনের চোখে পানি চলে এল।
কারণ এই কণ্ঠ সে একসময় ভালোবাসত।
কণ্ঠটা বলল—
—দরজা খুলো। আমি আরিয়ান।
মেহরীন দরজার দিকে এক পা এগিয়ে গেল।
আরিয়ান হঠাৎ তার হাত ধরে ফেলল।
—খুলো না!
মেহরীন থেমে গেল।
—কেন?
আরিয়ান কাঁপা গলায় বলল—
—কারণ…
সে দরজার দিকে তাকাল।
—ও যদি সত্যিই আরিয়ান হয়, তাহলে আমি কে?
ঠিক সেই মুহূর্তে দরজার ওপাশের মানুষটি হেসে উঠল।
আর বলল—
“এই প্রশ্নটার উত্তর মেহরীনই জানে।”
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন