একটা ছবির মানুষকে মেহরীন চিনতে পারছে না—
তবু তার জন্যই যদি সে নিজের স্মৃতি ত্যাগ করে থাকে, তবে মানুষটা তার কে ছিল?
মেহরীন ছবিটা শক্ত করে ধরে রইল।
—লোকটা কে?
M-2 কোনো উত্তর দিল না।
মায়া ধীরে বলল—
—তুমি সত্যিই মনে করতে পারছ না?
মেহরীন মাথা নাড়ল।
—না।
আরিয়ান হঠাৎ বলল—
—কারণ ওই স্মৃতিটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।
মেহরীন তার দিকে তাকাল।
—তুমি সবসময় আমাকে থামাতে চাও কেন?
আরিয়ান চুপ।
M-2 এবার ছবিটা নিয়ে ছবির মাঝের মানুষটির মুখে আঙুল রাখল।
—ওকে তুমি ভালোবাসতে।
মেহরীনের বুক কেঁপে উঠল।
—অসম্ভব।
—তবু সত্যি।
—তাহলে ও কোথায়?
M-2-এর চোখে অদ্ভুত একটা বিষণ্ণতা ফুটে উঠল।
—তুমি তাকে বাঁচাতে গিয়ে একটা ভুল করেছিলে।
—কী ভুল?
M-2 উত্তর না দিয়ে পকেট থেকে সেই ০৩/M টোকেনটা বের করল।
—এই টোকেনটা শুধু হাসপাতালের কক্ষের নম্বর ছিল না।
মেহরীন তাকিয়ে রইল।
—তাহলে?
M-2 বলল—
—এটা ছিল তোমাদের চুক্তির চিহ্ন।
মেহরীনের মাথায় হঠাৎ ঝলকে উঠল—
রাত।
হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।
তার নিজের কণ্ঠ—
“আমার স্মৃতি নিয়ে নাও। কিন্তু ওকে বাঁচাও।”
দৃশ্যটা মিলিয়ে গেল।
মেহরীন কাঁপতে কাঁপতে দেয়ালে হাত রাখল।
—আমি… নিজেই আমার স্মৃতি দিয়েছিলাম?
মায়া চোখ নামিয়ে বলল—
—হ্যাঁ।
মেহরীন এবার শেষ প্রশ্নটা করল—
—কাকে বাঁচানোর জন্য?
কেউ উত্তর দিল না।
ঠিক তখন তার ফোনে একটি নতুন ছবি এল।
ছবিতে সেই অচেনা মানুষটি।
এবার তার মুখ স্পষ্ট।
মেহরীনের চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল।
কারণ মানুষটি—
আরিয়ানের মতো দেখতে।
কিন্তু ছবির তারিখ পাঁচ বছর আগের।
আর ছবির নিচে লেখা—
“একজনকে বাঁচাতে গিয়ে তুমি দুজনকে হারিয়েছিলে, মেহরীন।”
মেহরীন ধীরে আরিয়ানের দিকে তাকাল।
আরিয়ান কিছু বলল না।
শুধু খুব নিচু স্বরে বলল—
—এবার তোমার মনে পড়বে, আমি আসলে কে।
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন