গন্তব্য শহরে,কর্মযোগ্য গ্রামে খানসামায় খড় কাটা মিলে নতুন আশ
রিশাদ হোসেন,দিনাজপুর,(খানসামা) প্রতিনিধি:
দেশের রাজধানী ঢাকা সহ বড় শহরগুলোতে গবাদি পশুর খাবারের চাহিদা মেটাতে এখন গ্রাম থেকেই সরাসরি যাচ্ছে প্রক্রিয়াজাত খড়। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার জমির উদ্দিন শাহ পাড়া সংলগ্ন “এমপির মিল” নামে পরিচিত চাটালে চলছে সেই কর্মযজ্ঞ।
এখানে তিনটি আধুনিক খড় কাটা মেশিন দিয়ে দিনরাত খড় কাটা, নির্দিষ্ট ওজনে বস্তাবন্দি করে ট্রাকে করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে। গ্রামে নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে আশার আলো।
শহরের চাপ সামলাতে গ্রামে নতুন মিল।উক্ত খড়কাটা মিলের ম্যানেজার মো: শামীম ইসলাম আমাদের জানান, “আমি এখানের দেখাশুনার দায়িত্বে আছি। আমরা প্রায় দীর্ঘদিন ধরেই এ ব্যবসা করে আসতেছি। দেশের রাজধানী ঢাকা সহ আশপাশের জেলার শহরগুলোতে আমরা খড় বিক্রি করে থাকি।
শহরে অর্ডারের অনেক চাপ। সেই ঘাটতি পূরণের জন্যই গ্রামে নতুন করে এই মিলটা শুরু করছি। এটা আমরা চলমান রাখবো। এদিকে খড় সংগ্রহ করাটা সহজ হচ্ছে তাই।”
দৈনিক ৫০০ টাকা আয়, বদলে যাচ্ছে জীবন।মিলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এলাকার অনেক তরুণ। স্থানীয় কর্মী রনি ইসলাম বলেন, “আমি এখানে শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। দৈনিক হাজিরা প্রায় পাঁচ শত টাকা পাচ্ছি। আমরা এখানে খড়গুলো মেশিন দিয়ে কেটে, সঠিক ওজনে বস্তা বন্দি করে প্রস্তুত করে থাকি।”
রনি, শাকিল,লিমন,শুভ সহ আরও কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে কাজের জন্য শহরে যেতে হতো। এখন গ্রামেই কাজ পাওয়ায় পরিবার নিয়ে থাকতে পারছেন তারা।
এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রাও। তাদের মতে, এ ধরনের ক্ষুদ্র শিল্প স্থানীয়দের উপকারে আসবে এবং গ্রামের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। খড় বিক্রি করে কৃষকরাও বাড়তি আয় পাচ্ছেন।কৃষি প্রধান এই অঞ্চলে মৌসুমি খড়কে কাজে লাগিয়ে এভাবে শহরের চাহিদা মেটানো এবং গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সত্যিই প্রশংসনীয়।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন