আমি তোমারে একবারই পাইয়াছিলাম
নির্মল ভৌমিক চাষীবন্ধু
আমি তোমারে একবারই পাইয়াছিলাম,
শিউলি-ঝরা এক নির্মল প্রভাতে;
স্বপ্নেরা নেমেছিল নীল আকাশ ছুঁয়ে,
তোমার দুটি চোখের নীরব ভাষাতে।
সেদিন বাতাস ছিল গানের মতো মধুর,
নদীও যেন ধীরে ধীরে গেয়েছিল সুর;
তোমার একটি হাসির মায়াবী আলোয়,
আমার পৃথিবী হয়েছিল ভরপুর।
তোমার হাতের উষ্ণ কোমল স্পর্শে,
কেঁপে উঠেছিল আমার সমস্ত প্রাণ;
মনে হয়েছিল এই ক্ষণিক পৃথিবীতে,
ভালোবাসাই বুঝি একমাত্র জ্ঞান।
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমি,
অজস্র ভোরের সোনালি প্রতিশ্রুতি;
ভাবিনি কখনো সেই আলোকরেখা,
হারিয়ে যাবে রেখে শুধু স্মৃতি।
একসাথে হেঁটেছিলাম অল্প কিছু পথ,
তবু সে পথ ছিল অনন্তের সমান;
আজও সেই ধুলোমাখা পথের বাঁকে,
শুনি তোমার নীরব পদধ্বনির টান।
তুমি বলেছিলে—ভালোবাসা কখনো
সময়ের কাছে হার মানে না প্রিয়;
আজ সময় জয়ী, তবু হৃদয় বলে,
তুমি আজও আমার সবচেয়ে প্রিয়।
একদিন হঠাৎ সন্ধ্যা নেমে এলো,
তুমি হারালে অচেনা দূর আকাশে;
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম একা নির্জনে,
অশ্রু লুকিয়ে বুকের নিভৃত ঘাসে।
তারপর থেকে প্রতিটি পূর্ণিমা রাতে,
চাঁদের মাঝে তোমার মুখখানি খুঁজি;
তারারাও যেন নীরবে বলে যায়,
প্রেম কোনোদিন সত্যি হয় না বুঝি।
কত ঋতু এল, কত ঋতু চলে গেল,
পাতারা ঝরল সময়েরই ডালে;
তবু তোমার স্মৃতি অমলিন হয়ে,
ফুলের সুবাস হয়ে রইল কালে কালে।
অনেকেই এসেছে জীবনের দুয়ারে,
হাসি দিয়ে ভরাতে চেয়েছে মন;
কিন্তু হৃদয়ের যে আসন তোমার,
সেখানে আজও নেই অন্য কারও স্থান।
অভিমানগুলো আজও ঘুমিয়ে আছে,
তোমার ফেলে যাওয়া চিঠির ভাঁজে;
না-বলা কথারা কাঁদে নীরব রাতে,
বুকের ভেতর অদৃশ্য এক সাঁঝে।
যখন বৃষ্টি নামে জানালার কাঁচে,
মনে হয় তুমি ছুঁয়ে গেলে আমায়;
ফোঁটা ফোঁটা জলে ভেসে ওঠে আবার,
অপূর্ণ প্রেমের হারানো অধ্যায়।
আমি শিখেছি হাসতে মানুষের ভিড়ে,
কাঁদতে শিখেছি নিঃসঙ্গ অন্ধকারে;
কারণ তোমার অনুপস্থিতি আজও,
নিভে না এমন প্রদীপ অন্তরে।
যদি কখনো আবার দেখা হয়ে যায়,
চোখে চোখ রেখে কিছু বলব না;
শুধু নীরবে হাত বাড়িয়ে দেব,
হারিয়ে যাওয়া সময় ফিরবে না।
তবু বিশ্বাস করি,
সত্যিকারের প্রেম মৃত্যুর কাছেও মাথা নত করে না;
যারা একবার হৃদয়ে বাসা বাঁধে,
তাদের বিদায় কোনোদিন শেষ হয় না।
আমি তোমারে একবারই পাইয়াছিলাম,
সেই একবারেই জীবন পূর্ণ হলো;
হাজার জন্মের সব প্রাপ্তির চেয়েও,
তোমারে একবার পাওয়াই অনন্ত রইল।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন