প্রতিহিংসার রাজনীতি বনাম জাতীয় ঐক্য: উত্তরণের বার্তা
জামিনুর ইসলাম
রাজনৈতিক সংঘাত, রক্তপাত আর হয়রানির বিষাক্ত চক্র থেকে মুক্তি পাওয়া আজ কোনো একক রাজনৈতিক দলের দাবি নয়; এটি এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাণের আকুতি। দশকের পর দশক ধরে ক্ষমতার পালাবদল আর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মাশুল গুনেছে সাধারণ মানুষ। প্রতিটি রাজনৈতিক অস্থিরতার পর রাজপথে যে রক্ত ঝরেছে, থমকে গেছে যে অর্থনীতির চাকা—তার ক্ষত বহন করতে হয়েছে এ দেশের কৃষক, শ্রমিক আর সাধারণ মধ্যবিত্তকে। এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতির ইতি টেনে এবার স্থিরতা ও পুনর্গঠনের পথে হাঁটার সময় এসেছে।
একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল চালিকাশক্তি হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে দ্বিমত বা ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু মতপার্থক্য যখন সংঘাত আর রক্তক্ষয় তৈরি করে, তখন ব্যাহত হয় জাতীয় অগ্রগতি। আজ আমাদের জাতীয় জীবনে এমন এক রূপান্তরকাল চলছে, যেখানে পুরোনো ভাঙাগড়ার খেলা বন্ধ করে একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। রক্তপাতহীন, শান্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছাড়া বৈদেশিক বিনিয়োগ, নতুন কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মতো মৌলিক কাজগুলো বাস্তবায়ন করা অসম্ভব।
স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণের ভূমিকা
রাষ্ট্র গঠনে কেবল শাসক বা রাজনৈতিক নেতাদের দিকে চেয়ে থাকলে চলবে না। সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক হিসেবে দেশের নাগরিক সমাজকেই সবচেয়ে শক্ত ও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে:
গুজব ও সহিংসতা বর্জন: রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা রাজপথে কোনো উসকানিতে প্ররোচিত হওয়া যাবে না। সংঘাত এড়িয়ে শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়াই নাগরিকের প্রথম দায়িত্ব।
সচেতনের বদলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: রাজনৈতিক অন্ধত্ব ত্যাগ করে নেতাদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার করতে হবে। সহিংসতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে নাগরিক অধিকার আদায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
গণতান্ত্রিক চর্চায় অংশ নেওয়া: নির্বাচন, স্থানীয় সরকার এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে গঠনমূলক অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে, যাতে কোনো শক্তি অরাজকতা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখল বা ধরে রাখতে না পারে।
জাতীয় ঐক্যের উন্মেষ: ধর্ম, বর্ণ ও দলীয় মতভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে এক হওয়া এখন সময়ের দাবি।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দিন শেষ করে একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার এই ঐতিহা
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন