নিয়ম ও অনিয়মের দ্বৈরথ: জীবনের এক শাশ্বত কাব্য
পৃথিবীর আদি লগ্ন থেকেই নিয়ম আর অনিয়ম একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে আসছে। মূলত নিয়ম থেকে অনিয়মে যাওয়া এবং অনিয়ম থেকে পুনরায় নিয়মে ফেরা—এই দুইয়ের মাঝামাঝি যে ধূসর এলাকা, সেখানেই আমাদের জীবনের প্রকৃত অবস্থান। জীবন সবসময় গাণিতিক ছকে চলে না, আর চলে না বলেই তা সুন্দর। জীবনের এই ছন্দময় অনিয়মই আমাদের অস্তিত্বকে সচল রাখে।
নিয়ম জীবনকে শৃঙ্খলা দেয় ঠিকই, কিন্তু অতিমাত্রায় নিয়ম সবসময় একঘেয়েমি আর যান্ত্রিকতার সৃষ্টি করে। মানুষ স্বভাবগতভাবেই নতুনত্বের পিয়াসী। নতুন কোনো সৃষ্টি বা নতুন কোনো আবির্ভাব যখন ঘটে, তা প্রচলিত নিয়মের হাত ধরেই আসবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং প্রথা ভাঙার সাহস থেকেই জন্ম নেয় নতুন কিছু। সৃষ্টির আনন্দ আসলে নিয়মের নিগড় ছিঁড়ে অজানাকে স্পর্শ করার ভেতরেই নিহিত। তাই সব সৃষ্টি নিয়ম মেনে হয় না; বরং নতুন কিছু করার অর্থই হলো প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করা।
মানুষের মনের ভাব বৈচিত্র্যময়; এখানে একেকজনের অনুভূতির প্রকাশ একেক রকম। সৃষ্টির কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচ নেই যা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। একজনের কাছে যা নিছক অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা, অন্যজনের কাছে সেটিই হয়তো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ রূপ। যার যার নিজস্ব নিয়ম তাঁর কাছে সৃষ্টির সেরা সার্থকতা। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লেখকদের জীবন ও কর্মের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁরা প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়েই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। হয়তো সমসাময়িক সময়ে অন্যের কাছে তাঁদের কাজ ভালো লাগেনি বা সমালোচিত হয়েছে, কিন্তু নিজের সৃষ্টির প্রতি তাঁদের অবিচল বিশ্বাসই তাঁদের কালজয়ী করেছে।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন