দরজার ওপাশে যে ছিল
“একটা কণ্ঠস্বর মানুষকে ফিরিয়ে দিতে পারে পুরোনো স্মৃতি—
আবার সেই কণ্ঠস্বরই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রতারণা।”
—মেহরীন… দরজা খোলো।
কণ্ঠটা আবার ভেসে এল।
মেহরীনের বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
—বাবা?
কোনো উত্তর নেই।
মায়া দ্রুত উঠে দরজার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
M-2 হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল।
—কেউ দরজা খুলবে না।
মেহরীন তাকাল।
—কিন্তু ওটা আমার বাবার কণ্ঠ!
M-2 নিচু গলায় বলল—
—কণ্ঠস্বর নকল করা যায়।
মেহরীনের চোখে আতঙ্ক জমল।
—তুমি বলতে চাইছ… বাইরে যে আছে সে আমার বাবা নয়?
—আমি কিছুই বলছি না। শুধু বলছি, নিশ্চিত না হয়ে দরজা খোলা যাবে না।
দরজার ওপাশ থেকে আবার শব্দ এল।
এবার কণ্ঠটা একটু বদলে গেল।
—মেহরীন, তুমি আমাকে চিনতে পারছ না?
মেহরীন চোখ বন্ধ করল।
স্মৃতির ভেতর হঠাৎ একটা দৃশ্য ঝলকে উঠল।
সে ছোট।
বাবা তার সামনে বসে আছেন।
হাতে একটা পুরোনো ঘড়ি।
বাবা বলছেন—
“মেহরীন, কোনোদিন যদি আমার কণ্ঠ শুনেও মনে হয় আমি তোমার বাবা নই… তাহলে আমার ডান হাতটা দেখবে।”
মেহরীন চোখ খুলে ফেলল।
—ডান হাত…
মায়া ফিসফিস করে বলল—
—কী?
—বাবা আমাকে একটা সংকেত দিয়েছিলেন।
M-2 দ্রুত জিজ্ঞেস করল—
—কী সংকেত?
—ডান হাত।
দরজার ওপাশ থেকে হঠাৎ হাসির শব্দ এল।
মেহরীনের শরীর শিউরে উঠল।
কারণ সেই হাসিটা—
তার বাবার ছিল না।
M-2 ধীরে দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে তাকাল।
তারপর মুখ তুলে বলল—
—ও একা নয়।
মেহরীন নিচু হয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখল।
এক জোড়া জুতো।
তার একটু পেছনে আরেক জোড়া।
দুজন মানুষ।
ঠিক তখনই দরজার নিচ দিয়ে একটা ছোট কাগজ ঢুকে এল।
মেহরীন সেটা তুলে নিল।
কাগজে মাত্র একটি বাক্য—
“তোমার বাবাকে খুঁজতে হলে ০৩ নম্বর কক্ষে ফিরে যাও।”
মেহরীন কাগজটা শক্ত করে মুঠোয় চেপে ধরল।
—আমরা এখনই ০৩ নম্বর কক্ষে যাব।
M-2 মাথা নাড়ল।
—না।
—কেন?
—কারণ ওরা চায় আমরা সেখানে যাই।
মেহরীন থেমে গেল।
—তাহলে?
M-2 পকেট থেকে সেই পুরোনো ০৩/M টোকেনটা বের করল।
—আমরা যাব না।
—তাহলে কোথায়?
M-2 টোকেনটা ঘুরিয়ে দেখাল।
পেছনে খোদাই করা ছিল মাত্র তিনটি অক্ষর—
M-01
মেহরীনের চোখ স্থির হয়ে গেল।
—এটা কী?
M-2 বলল—
—M-00-এর আগে যে কক্ষ ছিল।
মায়া কাঁপা গলায় বলল—
—ওই কক্ষ তো পাঁচ বছর আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
M-2 দরজার দিকে তাকাল।
—বন্ধ করা হয়েছিল কক্ষটা।
একটু থেমে সে বলল—
—মানুষটাকে নয়।
হঠাৎ বাইরে প্রচণ্ড শব্দ হলো।
দরজার হাতল নড়ছে।
কেউ জোর করে ঢোকার চেষ্টা করছে।
M-2 মেহরীনের দিকে তাকাল।
—এখন তোমার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
—কী সিদ্ধান্ত?
—তুমি কি তোমার বাবাকে খুঁজবে…
সে থামল।
—নাকি জানতে চাইবে, পাঁচ বছর আগে ০৩ নম্বর কক্ষে যে মানুষটা মারা গিয়েছিল, তার আসল নাম কী ছিল?
মেহরীন কোনো উত্তর দিল না।
কারণ তার ফোনে ঠিক তখনই নতুন একটি বার্তা এল।
প্রেরকের নাম দেখে তার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
“আরিয়ান”
বার্তায় মাত্র চারটি শব্দ—
“মেহরীন, আমি তোমার বাবা।”
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন