অপ্তিম
“একটি মায়াবী মুখের আড়ালে থমকে যাওয়া সমাজ”
🥲🥲🥲
নাজনীন শামীম
চট্টগ্রাম থেকে
১৩ বছরের এক মায়াবী, নিষ্পাপ মুখ। যে বয়সে হাতে বই, খেলার বল কিংবা বন্ধুদের সাথে খুনসুটি থাকার কথা, সেই বয়সে একদল নরপশুর লোভের বলি হতে হলো তাকে। অপরাধ? তার হাতে থাকা একটা আইফোন।
একটি নির্জীব, যান্ত্রিক ডিভাইসের জন্য একটি জ্যান্ত, প্রাণবন্ত শিশুর রক্তে ভেসে গেল রাজপথ। এই নির্মমতা শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করেনি, আমাদের গোটা সমাজ আর মানবতাবোধকে আবার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আজ আমরা যারা কলম ধরি, যারা শব্দের কারিগর, তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। কেবল শোক প্রকাশ আর মোমবাতি জ্বালিয়ে ক্ষোভ ঝাড়ার সময় আর নেই। এই নিষ্ঠুর সত্য আমাদের চোখের সামনে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—আমাদের সন্তানরা কতটা অরক্ষিত, আর আমাদের চারপাশের অন্ধকার কতটা গহীনে ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিভাবক হিসেবে আজ আমাদের সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। সন্তানকে ভালোবাসুন, তাকে ভালো জিনিস দিন—কিন্তু চারপাশের নির্দয় বাস্তবতার কথা ভুলে যাবেন না।
অতি-মূল্যবান কিংবা আকর্ষণীয় কোনো প্রযুক্তি ও জিনিসপত্র একা বের হওয়ার সময় সন্তানদের হাতে তুলে দেওয়ার আগে শতবার ভাবুন।
সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে এবং তার চলাচলের পথে কী ধরনের ঝুঁকি থাকতে পারে—সে বিষয়ে প্রতিনিয়ত নজর রাখুন।
সন্তানকে বাহ্যিক সুরক্ষার পাশাপাশি চারপাশের বিপদ ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করে তুলুন।
একটি আইফোন আবার কেনা সম্ভব, কিন্তু অপ্তিমের মতো একটি নিষ্পাপ আলো নিভে গেলে তা আর কোনোদিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। আর যেন কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়, আর কোনো অপ্তিমকে যেন তার অকাল রক্তের দামে সমাজের পচন মেটাতে না হয়।
আসুন, আজ তুলট লেখকমঞ্চের এই আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে। আমরা যেন আমাদের সন্তানদের প্রতি আরও বেশি খেয়াল রাখি, তাদের আগলে রাখি শক্ত হাতে।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন