সবচেয়ে কাছের মানুষ
মেহরীনের হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল।
ছবিটা এখনও স্ক্রিনে জ্বলছে।
হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।
আসল আরিয়ান।
মেহরীন।
আর তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মানুষটি—
M-00।
মেহরীন ছবিটা আবার তুলে নিল।
তার চোখ এবার ছবির মুখের ওপর স্থির।
সে ফিসফিস করে বলল—
—না…
মায়া কাছে এসে দাঁড়াল।
—তুমি ওকে চেনো?
মেহরীন উত্তর দিল না।
তার চোখে শুধু অবিশ্বাস।
কারণ ছবির মানুষটি—
মায়া।
মেহরীন কয়েক মুহূর্ত নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে বলল—
—তুমি?
মায়া কোনো কথা বলল না।
M-2 পিছিয়ে গেল।
আরিয়ান চোখ বন্ধ করল।
মেহরীন এবার মায়ার দিকে এগিয়ে গেল।
—তুমি আমাকে এতদিন কী বলেছ?
মায়া শান্ত গলায় বলল—
—যেটা তোমার মনে থাকার কথা ছিল।
—আর যেটা সত্যি?
মায়া চুপ।
—তুমি কি M-00?
মায়া চোখ নামিয়ে বলল—
—হ্যাঁ।
মেহরীনের বুকের ভেতর যেন কিছু একটা ভেঙে গেল।
—তাহলে তুমি আমার পাশে ছিলে কেন?
মায়া ধীরে বলল—
—কারণ তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে।
—আমি তোমাকে বিশ্বাস করতাম?
—পাঁচ বছর ধরে।
মেহরীন হেসে ফেলল।
—আর তুমি সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছ।
মায়া মাথা নাড়ল।
—হ্যাঁ।
মেহরীন চিৎকার করে উঠল—
—কেন?!
মায়া এবার তার দিকে তাকাল।
চোখে কোনো ভয় নেই।
শুধু গভীর ক্লান্তি।
—কারণ তোমাকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় ছিল না।
মেহরীন থেমে গেল।
—কাকে বাঁচাতে?
মায়া বলল—
—তোমাকে।
—আমাকে?
—হ্যাঁ।
—কিন্তু আরিয়ান?
মায়ার চোখে এক মুহূর্তের জন্য কষ্ট ফুটে উঠল।
—আরিয়ানকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না।
মেহরীন মাথা নাড়ল।
—না। আমি তাকে বাঁচিয়েছিলাম।
মায়া ধীরে বলল—
—তুমি যাকে বাঁচিয়েছিলে, সে আরিয়ান ছিল না।
মেহরীন পেছনে তাকাল।
আরিয়ানের মুখে কোনো প্রতিবাদ নেই।
মেহরীন বুঝল—
সবাই জানত।
শুধু সে জানত না।
মায়া টেবিলের ওপর একটা পুরোনো বাক্স রাখল।
—এটা তোমার জন্য।
মেহরীন বাক্স খুলল।
ভেতরে—
একটি পুরোনো ঘড়ি।
একটি হাসপাতালের পরিচয়পত্র।
আর একটি চিঠি।
চিঠির ওপরে লেখা—
“মেহরীনকে দেওয়া যাবে শুধু যখন M-00 প্রকাশ পাবে।”
মেহরীন চিঠিটা খুলল।
প্রথম লাইন—
“তুমি যদি এই চিঠি পড়ো, তাহলে মায়াকে আর বিশ্বাস কোরো না।”
মেহরীন থমকে গেল।
সে ধীরে মায়ার দিকে তাকাল।
মায়া চোখ বন্ধ করল।
—আমি জানতাম এই দিনটা আসবে।
মেহরীন চিঠির পরের লাইন পড়ল।
“কারণ M-00 আসলে মায়া নয়।”
মেহরীনের হাত কেঁপে উঠল।
সে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল—
—তাহলে তুমি কী?
মায়া এবারও চুপ।
হঠাৎ বাক্সের ভেতরের পুরোনো ঘড়িটা নিজে থেকেই চলতে শুরু করল।
টিক… টিক… টিক…
ঘড়ির কাঁটা থেমে গেল—
রাত ৩টা ০৩ মিনিটে।
মেহরীনের চোখ বিস্ফারিত।
ঠিক সেই সময় তার মাথায় একটি সম্পূর্ণ স্মৃতি ফিরে এল।
হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।
মায়া দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে।
আর ভেতরে—
মেহরীন একা।
তার হাতে ০৩/M টোকেন।
সে নিজের কণ্ঠে বলছে—
“মায়াকে আমি কখনো বিশ্বাস করিনি।”
মেহরীন হঠাৎ চোখ খুলল।
মায়ার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—
—আমি তোমাকে চিনতামই না…
মায়ার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
আর ঠিক তখনই—
দরজার বাইরে সেই পরিচিত কণ্ঠ শোনা গেল।
“অবশেষে মনে পড়েছে।”
মেহরীন দরজার দিকে তাকাল।
কণ্ঠটা আবার বলল—
“মায়া M-00 নয়।”
এক মুহূর্ত নীরবতা।
তারপর—
“M-00 আমি।”
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন