• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারি আটক করে থানায় আসার সময় এস আই সহ নিহত ২ আহত ২ জন মোঃ মুক্তাদির হোসেন, বাংলাদেশ কবিতা সংসদের সাহিত্য সম্মেলন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কবিতা: সমাজের আয়না সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে এমপি মিলন, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস তুমুলিয়া ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম কবিতা:মায়ার পৃথিবী, সত্যের স্রষ্টা — একটি আত্মোপলব্ধির কবিতা রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম তারিখ:১৬/১০/২০২৬ স্বী স্ত্রীর রমীমা মাদক ব্যবসা কালীগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যেগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

শেষ চিঠির ওপারে” লেখিকাঃ নাজনীন শামীম — পর্ব ২৮। দৈনিক বাংলার কথা।

বাংলার কথা ডেস্ক / ৪৫ বার পঠিত
আপডেটঃ মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেষ চিঠির ওপারে”
নাজনীন শামীম
— পর্ব ২৮

সবচেয়ে কাছের মানুষ

মেহরীনের হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল।

ছবিটা এখনও স্ক্রিনে জ্বলছে।

হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।

আসল আরিয়ান।

মেহরীন।

আর তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মানুষটি—

M-00।

মেহরীন ছবিটা আবার তুলে নিল।

তার চোখ এবার ছবির মুখের ওপর স্থির।

সে ফিসফিস করে বলল—

—না…

মায়া কাছে এসে দাঁড়াল।

—তুমি ওকে চেনো?

মেহরীন উত্তর দিল না।

তার চোখে শুধু অবিশ্বাস।

কারণ ছবির মানুষটি—

মায়া।

মেহরীন কয়েক মুহূর্ত নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল।

তারপর ধীরে বলল—

—তুমি?

মায়া কোনো কথা বলল না।

M-2 পিছিয়ে গেল।

আরিয়ান চোখ বন্ধ করল।

মেহরীন এবার মায়ার দিকে এগিয়ে গেল।

—তুমি আমাকে এতদিন কী বলেছ?

মায়া শান্ত গলায় বলল—

—যেটা তোমার মনে থাকার কথা ছিল।

—আর যেটা সত্যি?

মায়া চুপ।

—তুমি কি M-00?

মায়া চোখ নামিয়ে বলল—

—হ্যাঁ।

মেহরীনের বুকের ভেতর যেন কিছু একটা ভেঙে গেল।

—তাহলে তুমি আমার পাশে ছিলে কেন?

মায়া ধীরে বলল—

—কারণ তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে।

—আমি তোমাকে বিশ্বাস করতাম?

—পাঁচ বছর ধরে।

মেহরীন হেসে ফেলল।

—আর তুমি সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছ।

মায়া মাথা নাড়ল।

—হ্যাঁ।

মেহরীন চিৎকার করে উঠল—

—কেন?!

মায়া এবার তার দিকে তাকাল।

চোখে কোনো ভয় নেই।

শুধু গভীর ক্লান্তি।

—কারণ তোমাকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় ছিল না।

মেহরীন থেমে গেল।

—কাকে বাঁচাতে?

মায়া বলল—

—তোমাকে।

—আমাকে?

—হ্যাঁ।

—কিন্তু আরিয়ান?

মায়ার চোখে এক মুহূর্তের জন্য কষ্ট ফুটে উঠল।

—আরিয়ানকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না।

মেহরীন মাথা নাড়ল।

—না। আমি তাকে বাঁচিয়েছিলাম।

মায়া ধীরে বলল—

—তুমি যাকে বাঁচিয়েছিলে, সে আরিয়ান ছিল না।

মেহরীন পেছনে তাকাল।

আরিয়ানের মুখে কোনো প্রতিবাদ নেই।

মেহরীন বুঝল—

সবাই জানত।

শুধু সে জানত না।

মায়া টেবিলের ওপর একটা পুরোনো বাক্স রাখল।

—এটা তোমার জন্য।

মেহরীন বাক্স খুলল।

ভেতরে—

একটি পুরোনো ঘড়ি।

একটি হাসপাতালের পরিচয়পত্র।

আর একটি চিঠি।

চিঠির ওপরে লেখা—

“মেহরীনকে দেওয়া যাবে শুধু যখন M-00 প্রকাশ পাবে।”

মেহরীন চিঠিটা খুলল।

প্রথম লাইন—

“তুমি যদি এই চিঠি পড়ো, তাহলে মায়াকে আর বিশ্বাস কোরো না।”

মেহরীন থমকে গেল।

সে ধীরে মায়ার দিকে তাকাল।

মায়া চোখ বন্ধ করল।

—আমি জানতাম এই দিনটা আসবে।

মেহরীন চিঠির পরের লাইন পড়ল।

“কারণ M-00 আসলে মায়া নয়।”

মেহরীনের হাত কেঁপে উঠল।

সে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল—

—তাহলে তুমি কী?

মায়া এবারও চুপ।

হঠাৎ বাক্সের ভেতরের পুরোনো ঘড়িটা নিজে থেকেই চলতে শুরু করল।

টিক… টিক… টিক…

ঘড়ির কাঁটা থেমে গেল—

রাত ৩টা ০৩ মিনিটে।

মেহরীনের চোখ বিস্ফারিত।

ঠিক সেই সময় তার মাথায় একটি সম্পূর্ণ স্মৃতি ফিরে এল।

হাসপাতালের ০৩ নম্বর কক্ষ।

মায়া দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে।

আর ভেতরে—

মেহরীন একা।

তার হাতে ০৩/M টোকেন।

সে নিজের কণ্ঠে বলছে—

“মায়াকে আমি কখনো বিশ্বাস করিনি।”

মেহরীন হঠাৎ চোখ খুলল।

মায়ার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—

—আমি তোমাকে চিনতামই না…

মায়ার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

আর ঠিক তখনই—

দরজার বাইরে সেই পরিচিত কণ্ঠ শোনা গেল।

“অবশেষে মনে পড়েছে।”

মেহরীন দরজার দিকে তাকাল।

কণ্ঠটা আবার বলল—

“মায়া M-00 নয়।”

এক মুহূর্ত নীরবতা।

তারপর—

“M-00 আমি।”

চলবে…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন