নিজের লেখা চিঠি
অন্ধকার ঘরের মধ্যে মেহরীন একা দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে হলো।
কেউ কথা বলছে না।
শুধু টেবিলের ওপর রাখা ০৩/M টোকেনটা ক্ষীণ আলো ছড়াচ্ছে।
তার ওপর জ্বলছে—
M-00
মেহরীন হাত বাড়িয়ে টোকেনটা তুলল।
সঙ্গে সঙ্গে টোকেনের ভেতর থেকে একটা ছোট্ট শব্দ হলো।
ক্লিক।
টেবিলের নিচের একটা ড্রয়ার খুলে গেল।
মেহরীন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
ভেতরে একটি পুরোনো খাম।
খামের ওপর লেখা—
“মেহরীন নিজে ছাড়া কেউ খুলবে না।”
তার হাত কেঁপে উঠল।
—এটা এখানে কীভাবে এল?
M-2 ধীরে বলল—
—তুমি নিজেই রেখে গিয়েছিলে।
মেহরীন তার দিকে তাকাল।
—কখন?
—পাঁচ বছর আগে।
মেহরীন খামটা খুলল।
ভেতরে একটা চিঠি।
হাতের লেখা তার নিজের।
প্রথম লাইন—
“মেহরীন, যদি তুমি এই চিঠি পড়ো, তাহলে তুমি আমাকে ভুলে গেছ।”
মেহরীনের বুক ধক করে উঠল।
সে পড়তে লাগল।
“তুমি ভাববে, তোমার স্মৃতি কেউ চুরি করেছে। আসলে তা নয়।”
মেহরীন থেমে গেল।
—তাহলে?
আরিয়ান নিচু গলায় বলল—
—পড়তে থাকো।
মেহরীন আবার চিঠির দিকে তাকাল।
“তুমি নিজেই তোমার স্মৃতি বন্ধ করেছিলে।”
তার চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেল।
আরেকটি লাইন—
“কারণ তুমি এমন একটা সত্য জেনে গিয়েছিলে, যেটা জানার পর তুমি কাউকেই বিশ্বাস করতে পারতে না।”
মেহরীন ফিসফিস করে বলল—
—কী সত্য?
চিঠিতে তার উত্তর ছিল না।
শুধু লেখা—
“M-00-কে খুঁজে বের করো।”
তারপর—
“কিন্তু সাবধান। M-00 কোনো ব্যক্তি নয়।”
মেহরীন থেমে গেল।
M-2-এর মুখের দিকে তাকাল।
—তাহলে M-00 কী?
M-2 ধীরে বলল—
—একটা প্রোটোকল।
—কিসের?
—স্মৃতি বদলানোর।
ঘরের ভেতর যেন হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল।
মেহরীন চিঠিটা শক্ত করে ধরে বলল—
—মানে আমার স্মৃতি বদলে দেওয়া হয়েছিল?
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
—হ্যাঁ।
—কে করেছিল?
আরিয়ান এবার চুপ।
মেহরীন বুঝে গেল—
উত্তরটা সে জানে।
কিন্তু তার মনে নেই।
ঠিক তখন চিঠির শেষ অংশে একটি নতুন লেখা দেখা গেল।
মেহরীন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
কাগজে আগে যা ছিল না, ধীরে ধীরে কালো অক্ষর ফুটে উঠছে—
“যে মানুষটি তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে, তার দিকে তাকাও।”
মেহরীন ধীরে মাথা তুলল।
তার সামনে আরিয়ান।
চিঠিতে আবার অক্ষর ফুটে উঠল—
“তাকে জিজ্ঞেস করো—পাঁচ বছর আগে সে কোথায় ছিল?”
মেহরীন স্থির চোখে আরিয়ানের দিকে তাকাল।
—পাঁচ বছর আগে তুমি কোথায় ছিলে?
আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।
—বল।
—আমি…
সে থেমে গেল।
M-2 হঠাৎ বলে উঠল—
—মেহরীন, ওকে জিজ্ঞেস কোরো না।
—কেন?
—কারণ উত্তরটা তুমি সহ্য করতে পারবে না।
মেহরীন এবার আরও দৃঢ় হলো।
—আমি এতদিন আমার নিজের জীবন সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলাম। আর না।
সে আরিয়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
—পাঁচ বছর আগে তুমি কোথায় ছিলে?
আরিয়ান চোখ বন্ধ করল।
তারপর ধীরে বলল—
—আমি তখন মারা গিয়েছিলাম।
মেহরীন জমে গেল।
কিন্তু আরিয়ান পরের কথাটা বলতেই তার বুকের ভেতর যেন সবকিছু থেমে গেল—
—আর তুমি আমাকে বাঁচাওনি, মেহরীন।
সে চিঠিটার দিকে তাকাল।
শেষ লাইনে তখন নতুন একটি বাক্য ফুটে উঠেছে—
“কারণ তুমি যাকে বাঁচিয়েছিলে, সে আরিয়ান ছিল না।”
চলবে…
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন